• বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

এই জগতে সকলেই স্ত্রী-সঙ্গের প্রতি আসক্ত

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০


উজ্জ্বল রায় (নিজস্ব প্রতিবেদক) নড়াইলঃ  এই জগতে সকলেই স্ত্রী-সঙ্গের প্রতি আসক্ত। সুখ–সংসার জীবনের তথাকথিত সুখের সূচনা হয় মৈথুন থেকে। ” মানুষ সাধারণত বিবাহ করে তাদের কাম-বাসনা চরিতার্থ করার জন্য তারপর সে সন্তান প্রাপ্ত হয়। তারপর তারা যখন বড় হয়,তখন কন্যা। উজ্জ্বল রায় (নিজস্ব প্রতিবেদক) নড়াইল জানান, একটি ছেলেকে বিবাহ করে এবং পুত্র একটি মেয়েকে বিবাহ করে,এবং তাও একটি মাত্র উদ্দেশ্যেই–কাম-বাসনা চরিতার্থ করা। এই ভাবে ‘শ্রী-ঐশ্বর্য-প্রজেপ্সব’–এর মাধ্যমে জড় সুখ প্রসারিত হয়। শ্রী মানে ‘সৌন্দর্য  ঐশ্বর্য মানে হচ্ছে ‘ধন-সম্পদ’ আর প্রজা মানে হচ্ছে সন্তান-সন্ততি’।

মানুষ মনে করে যে,সে যদি সুন্দরী স্ত্রী লাভ করে,ব্যাঙ্কে অনেক টাকা জমাতে পারে,আর পুত্র-কন্যা-নাতি-নাতনি ইত্যাদি উৎপাদন করতে পারে।তা হলেই তার জীবন সার্থক। আর কোন পরিবারে,যদি সুন্দরী স্ত্রী,ধন সম্পদ এবং বহু সন্তান-সন্ততি থাকে,তা হলে তাকে সব চাইতে সার্থক বলে মনে করা হয়। এই সার্থকতার অর্থ কি ? শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে,এই সাফল্য কেবল মৈথুনের প্রসার মাত্র। এছাড়া আর কিছুই নয়। তা আমরা নানাভাবে রং-চং দিয়ে প্রকাশ করতে পারি,তবে এই মৈথুনের সুখ শুকরদের মধ্যেও রয়েছে। শুকর সারাদিন যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায় আর নানা রকম কু-খাদ্য সংগ্রহ করে তার ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। তার সারাক্ষণের চিন্তা–“কোথায় একটু বিষ্ঠা পাওয়া যাবে ? কোথায় গেলে বিষ্ঠা পাওয়া যাবে ?” আর তারপর কোন রকম বাছ- বিচার না করেই সে মৈথুনে লিপ্ত হয়।  সে যে তার মায়ের সঙ্গে,না বোনের সঙ্গে,না কন্যার সঙ্গে লিপ্ত হচ্ছে,সেই সম্বন্ধে তার কোন বাছ-বিচার থাকে না।তাই শাস্ত্রে বলা হয়েছে,এই জড় জগতে সকলেই কাম দেবের শিকার। কামদেব বা মদনের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যৌন সুখ উপভোগ করা যায় না।

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি নাম হচ্ছে মদনমোহন, অর্থাৎ যিনি মদনকেও মোহিত করেন। ’কেউ যখন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়,তখন তিনি মৈথুন-সুখ বিস্মৃত হন। এটিই হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃতের পথে প্রগতির পরীক্ষা। মদন শব্দটির আরেকটি অর্থ হচ্ছে–উন্মত্ত হওয়া বা প্রমত্ত হওয়া। সকলেই কাম-বাসনা চরিতার্থ করতে উন্মত্ত। শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে–পুংসঃ স্ত্রিয়া মিথুনীভাবমেতংতয়োর্মিথো হৃদয়গ্রন্থিমাহুঃ।এই জড় জগতে স্ত্রী এবং পুরুষের পরস্পরের প্রতি


আকর্ষণের ফলেই সব কিছু সংগঠিত হচ্ছে। পুরুষস্ত্রীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে,আর স্ত্রী পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে,এবং তারপর যখন তারা মৈথুনের দ্বারা আবদ্ধ হয়, তখন এই জড় জগতের প্রতি তাদের আসক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিবাহের পর স্ত্রী এবং পুরুষ একটি সুন্দর বাড়ি অথবা একটি ভাল চাকরির অন্বেষণ করে অথবা চাষ করার জমির অন্বেষণ করে। কারণ অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে হলে অর্থ- উপার্জন করতে হবে। তার পরে আসে সুত (সন্তান- সন্ততি),আত্ম (আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধব) এবং বিত্ত (ধনসম্পদ)। এই ভাবে জড় জগতের প্রতি আকর্ষণ গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। 


আর তা শুরু হয় মদনের আকর্ষণের প্রভাবে,যৌন-সুখ উপভোগের।জন্য। কিন্তু জড় জগতের চাকচিক্যের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়; আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া। শ্রীকৃষ্ণের।সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হলে জড় জগতের অলীক সৌন্দর্যের প্রতি আর কোন আকর্ষণ থাকে না। এই সম্বন্ধে শ্রীযামুনাচার্য বলেছেন–যদবধি মম চেতঃ কৃষ্ণপাদারবিন্দেনবনবরসধামন্যুদ্যতং রন্তুমাসীৎ।তৎবধি বত নারীসঙ্গমে স্মর্যমাণেভবতি মুখবিকারঃ সুষ্ঠ নিষ্ঠীবনং চ ॥
“যখন থেকে আমি শ্রীকৃষ্ণের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি, এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্মের সেবা করতে শুরু করেছি,তখন থেকে আমি নব নব রস আস্বাদন করছি, এবং যখনই আমার স্ত্রী সঙ্গমের কথা স্মরণ হয়,তখন ঘৃণায় মুখ বিকৃত হয় এবং সেই জঘন্য চিন্তার উদ্দেশ্যে আমি থুথু ফেলি। ” এই ভাবে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন মদনমোহন– অর্থাৎ,মদনকে যিনি মোহন করেন। মদন সকলকে আকৃষ্ট করছে,কিন্তু আমরা যখন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হই,তখন আমরা এই জড় জগতকে জয় করি। তা না হলে,এই জড় জগতের আকর্ষণ জয় করা অত্যন্ত কঠিন। সেই সম্বন্ধে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন–
দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া।মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ॥এই জড় জগৎকে অতিক্রম করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তুকেউ যদি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হন এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্মকে অত্যন্ত গভীর ভাবে আঁকড়ে ধরে প্রার্থনা করেন, “কৃষ্ণ আমাকে রক্ষা কর। ” তখনশ্রীকৃষ্ণও প্রতিজ্ঞা করেন, “হ্যাঁ, আমি তোমাকে রক্ষা করব। কোন দুশ্চিন্তা করো না। আমি তোমাকে রক্ষা করব। ”
কৌন্তেয় প্রতিজানীহি ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতিঃ।“হে অর্জুন, তুমি সমস্ত জগতের কাছে ঘোষণা করতেপার যে,আমার যে ভক্ত আমাকে সেবা করা ছাড়াঅন্য কোন বাসনাই পোষণ করে না,তাকে আমিসর্বদাই রক্ষা করব। ”দুর্ভাগ্যবশত,মানুষ জানে না যে, আমাদের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় গ্রহণ করা। এ ছাড়া আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই। এছাড়া আমরা যা কিছুই করি না কেন,তা কেবল আমাদের এই জড় জগতের বন্ধনে জড়িয়ে ফেলে। মানব জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া আমাদের গ্রুপটিতে জয়েন করার জন্য ধন্যবাদ, কৃপা করে । যেটি প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/