• মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

জসিমের ছবির জনপ্রিয়তায় স্বৈরাচার এরশাদের ভূমিকা!!

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৮

স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হয় ১৯৯০ সালে।তীব্র আন্দোলনের মুখে তার পতন হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিলো ছাত্ররা। ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সহ ছাত্র সংগঠনগুলোর তীব্র আন্দোলনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এরশাদ। এরশাদের পতন হয় সত্যি তবে এক বিশাল ক্ষতি হয়ে যায় ছাত্র সমাজের। ছাত্ররা পড়ালেখা ছেড়ে প্রবল ভাবে জড়িয়ে পড়ে রাজনীতিতে। পড়ালেখা না করে পাশ করতে চাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। পড়ালেখা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নকল করার এক উৎসবের শুরু হয় এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকেই । ছাত্রদের মোরালিটি ভেঙ্গে পড়ে একেবারে। ফলে ছাত্ররা মেয়েদের সাথে টাংকি মারা(টিজিং করা) , নেশা করা , নকল করা, শিক্ষায়তনে মারামারি-হানাহানি, শিক্ষকদের অসম্মান করাসহ নানা কুকর্মে জড়িয়ে যায়।


‘৯০ এর পর গণতান্ত্রিক সরকার গুলো আসলেও কোন চিহ্নিত বিরোধী শক্তি না থাকাতে( স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ) তাদের শক্তির বেশির ভাগ ব্যবহার করতে থাকে বিভিন্ন অপকর্মে, যেমন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর নিয়ম ভাঙ্গাতে এরা আগ্রহী হয়ে উঠে।

 

ছাত্র তথা যুবকদের বখে যাওয়া এইসময়ে দেশের অর্থনীতি কিন্তু ছিলো আগের মতই দূর্বল। মানে ছাত্রদের বেশিভাগ অভিভাবকদের অবস্থা ছিলো তথৈবচ। খুব কষ্ট করে ৯০ এর দশকে অভিভাবকরা টাকা পাঠাতো ছোট ভাই/বোন অথবা ছেলে/মেয়ের জন্য। আর শহর কেন্দ্রিক শিক্ষাকেন্দ্র গুলোতে সেই ছোট ভাই/বোন অথবা ছেলে/মেয়ে গুলো পুরোপুরি নষ্ট হচ্ছিল ।

মুম্বাই সিনেমা আর টেলিভিশনের ব্যাপক প্রসারে প্রেম নামক নিষিদ্ধ বস্তুটি তখন সমাজে ডালপালা মেলা শুরু করছিল। ছোট ভাই/বোন অথবা ছেলে/মেয়ের বখে যাওয়া, বাবা-ভাই/বোনের কষ্টকরে টাকা উপার্জন, রাজনৈতিক বখাটেপনা, প্রেম ইত্যাদি তখন বাংলা ছবির স্ক্রিপ্ট রাইটারদের এক বিরাট রসদ যোগালো। ছোট ভাই/বোন-ছেলে/মেয়ের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে অজস্র সিনেমা বানানো হলো । ছবি গুলোও হিট হতে শুরু করলো। নায়ক জসিম, রাজ্জাক আর শাবানার অসংখ্য দুঃখের ছবি এই সময়েই বানানো এবং ব্যবসাসফল হয়।

 

তবে একটা ভুল করে বসে বেশির ভাগ সিনেমা মেকারেরা। তারা উঠতি ছাত্রছাত্রীদের খারাপ দিকটা দেখাতে গিয়ে বেশি মহান করে ফেলে মূর্খ/অশিক্ষিত চরিত্রটিকে। তারা দেখাতে ব্যর্থ হয় যে সব শিক্ষিত ছেলে/মেয়েই খারাপ নয়। ফলে অশিক্ষিত মানুষই ভাল আর শিক্ষিত মানেই খারাপ ” টাইপের একটা ধারণা আমাদের মন মগজে চেপে বসে। জাতি এখনো যা কাটিয়ে উঠতে পারছেনা। শিক্ষার পিছনে ব্যয় করতে এখনো মানুষ ২ বার ভাবে। আসলে সিনেমা আমাদের বাস্তব জিবনের দর্পণ স্বরূপ এবং জ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে আমরা মিডিয়ায় দেখানো অনেক কিছুই ধারণ করি। এই মিডিয়ার মাধ্যমেই আমরা পুরা জাতিকে শিক্ষার দিকে ধাবিত করতে পারি। নোংরা ছাত্ররাজনীতি বর্জন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবী।

লিখেছেন: Abdul Kaium Regan

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/