• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
সালাউদ্দিন কে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! জনতার রাজনীতির এক যোদ্ধার নাম সম্রাট সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীগঞ্জবাসীর সংবর্ধনা! ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল রামগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২১ শে আগস্ট ও বিএনপির ঐতিহাসিক বিচারহীনতার চরিত্র কোম্পানীগঞ্জসহ আরও ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চূড়ান্ত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী ঘটেছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মুক্তিকামী সকল মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ

করোনা আতঙ্ক: নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না- সুজন

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

আজ সারাবিশ্ব কাঁপছে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আতঙ্কে। মানুষের উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক যতদিন যাচ্ছে তত বেড়েই চলছে। সময়ের সাথে সাথে এ পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করছে। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে এ ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল চীনের উহানে। চীন সেটিকে অনেক সুন্দর ও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করেছে। বর্তমানে এটি আরও মহামারী আকার ধারণ করেছে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বর্তমানের এই মহামারী ইউরোপের ইতিহাসে সবেচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২৪ মার্চ ২০২০, রাত দশটা পর্যন্ত সর্বশেষ হিসেবে দেখা যাচ্ছে সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৭,৮৬৭৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৬,৫০৮ জনের, আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের প্রায় ১৬৮ টি দেশ আর বংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ জন, মারা গেছে ৬ জন, আর সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ৫ জন। যতই দিন যাচ্ছে ততই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দিন দিন এটি আরও মহামারী আকার ধারণ করছে।


প্রথম থেকেই বাংলাদেশ সরকার করোনা বা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও এর মধ্যে কিছু অব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা লক্ষ্যণীয়। কিন্তু এ ব্যাপারে কারো আন্তরিকতার ঘাটতি আছে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু যথেষ্ট আন্তরিকতার অভাব, আমরা যারা সাধারণ নাগরিক তাদের মধ্যে আছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা সাধারণ নাগরিকরা ঘরে বসে বসে বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারকে নানান ধরনের উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েই যাচ্ছি । কিন্তু আমরা কি আমাদের উপর অর্পিত নাগরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি? রাষ্ট্রের যেকোন দুর্যোগ মোকাবিলায় দায়িত্ব কি শুধু সরকারের? যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিকের সামাজিক, মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব থাকে। এই সকল সুনাগরিকের দায়িত্ব শুধু পুস্তকে সীমাবদ্ধ থাকুক এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।

মানুষ সামাজিক জীব। আমরা কখনো সমাজের বাইরে বসবাস করতে পারি না। আমরা এই সময় কেমন যেন অসামাজিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করছি। করোনাভাইরাসে আমাদের বিপদে সবার আগে এগিয়ে আসতে দেখলাম চীনের বিখ্যাত অনলাইন মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান জ্যাক ম্যা’র আলীবাবাকে। তারা আমাদের জন্য টেস্ট কিট, মাস্ক, থার্মোমিটার ও হ্যান্ড গ্লাভস্ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশের নভেলপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্টের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন এর নির্বাচনী ফান্ডে কাড়ি কাড়ি ডলার অনুদান প্রদান করেন। বাংলাদেশের এ সংকটে উনি এবং উনার প্রতিষ্ঠান চুপ কেন? এছাড়া আমাদের দেশের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠাগুলো যেমন; স্কয়ার, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ তারা কই?

ওয়াল্টন এর মত প্রতিষ্ঠান যারা দেশের আবেগ নিয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করে তারা কই? কথায় কথায় যেসব ব্যাংক ও এ সেক্টরের মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর ত্র্যাণ তহবিলে টাকা দেওয়ার জন্য ছুটে যান তারা আজ কোথায়? যারা ফুটানি মার্কা যাকাত দেয়ার নাম করে শাড়ী, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি বিলাতে গিয়ে মানুষ মারে তারাতো এই যাকাতের টাকা দিয়ে গরীবদের বলতে পারে, এই টাকা দিয়ে চলো, ১৫ দিন অথবা ১ মাস ঘর থেকে বের হবার দরকার নেই। আমরা এখনো দেখলাম না আমাদের নামী-দামী কোন প্রতিষ্ঠান তাদের শো-রুমে অন্তত মাস্ক অথবা হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিনামূল্যে অথবা কমমূল্যে বিতরণ করছেন । উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে দুই একদিনের মধ্যে যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই পণ্যগুলো কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে আমরা দেখবো আমাদের দেশীয় অন্তত ২০ থেকে ২৫টা প্রতিষ্ঠান এই কাজ পাওয়ার জন্য তদবির শুরু করে দিয়েছেন। আর আমরা আমাদের আমলাদের কথা কি আর বলবো এ কাজেও যে তারা কমিশন মানি নিবেন না সেটা মনে হয় এই বাংলাদেশের কেউই বিশ্বাস করেন না। আমলাদের এই চরিত্র ঐতিহাসিকও বটে । যেটি আমরা এই বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই পেয়েছি । আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশ নিয়ে অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “দেশ স্বাধীন করলে সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি। আমার ডানে চোর, বাঁয়ে চোর, সামনে চোর, পিছনে চোর, চোর আর চোর। আমি বিদেশ থেকে যা কিছু আনি এই চোর চাটার দল সব খাইয়া ফেলায়। সাত কোটি মানুষের জন্য সাড়ে সাত কোটি কম্বল আনছি , অথচ আমি আমার টাও পেলাম না।“ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমদ ছফা স্যার গাভী বিত্তান্ত বইয়ে লিখেছেন, “চাষারা লাঙলের মুঠি ধরে দেশটা টিকিয়ে রেখেছে নয়তো অসাধু আমলা, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক এবং ফটকাবাজ ব্যবসায়ীরা দেশের সমস্ত মাটি মেপে বিদেশে চালান করে দিত”। আমরা আমাদের বিপদের এইরকম মুহূর্তে যদি শুধু নিজের স্বার্থটাই চিন্তা করি তাহলে ক্ষতিটা কার সেটা ও আমাদের একবার মনে রাখা দরকার, “নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না”। তাই আমাদেরকে আমাদের নিজেদের স্বার্থে সতর্ক হওয়া উচিত, আমাদের যথাযথ নাগরিক দায়িত্ব পালন করা উচিত।


আমরা আমাদের ক্ষেত্রে একে অন্যের প্রতি কতটা মানবিক কিংবা আমানবিক সেটি মনে হয় এই করোনাভাইরাস আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এই একটি কারণে দেখলাম দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যা আছে তা কিনে আমরা মজুদ করা শুরু করে দিয়েছি। যার ফলাফল হিসেবে দেখলাম নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে আগুন। আমরা যারা অনেক অনেক বাজার নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছি তারা কি একবারও চিন্তা করেছি যে সাধারণ খেঁটে খাওয়া দিন মজুরদের কি হবে? আমরা অতিরিক্ত বাজার করে বাজারে দ্রব্যের ঘাটতি সৃষ্টি করছি, দাম বাড়িয়ে দিচ্ছি। এটা কতটা অমানবিক হতে পারে, তা কি আমরা একবারও চিন্তা করেছি?
আর যারা দোকানী ও মজুদদার একবারও কি চিন্তা করেছেন গুদামজাত করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে এ টাকা দিয়ে কি করবেন? করোনা কি শুধু গরীব মানুষের জন্য এসেছে? আপনি খাদ্য সংগ্রহ করছেন করোনাভাইরাসের ভয়ে, যেন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে গেলে আপনাকে খাদ্যের অভাবে

মারা যেতে না হয় কিন্তু-পবিত্র কুরআনে পাকে বলা হয়েছেঃ- “যমীনের উপর বিচরণশীল এমন কোনো প্রানী নেই, যার রিযিক আল্লাহ পাক নির্ধারণ করেন নি।”
(সূরাঃহূদ-৬)


যেখানে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যারকেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোরাও হোম কোয়ারেইনটাইনে সেখানে করোনা কি আপনাদের ছুঁতে পারবে না? তাই কথাটি আবারও বলতে হয়, “নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না”।
সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা দেখতে পাচ্ছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও ইতালির মত কিছু দেশে রাস্তার পাশে, বাড়ীর সামনে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মানুষ স্বেচ্ছায় রেখে যাচ্ছে, আর এইগুলোর সামনে বড় অক্ষরে লেখা আছে ‘ফ্রি’ টেক হোয়াট ইউ নিড। আর আমরা আমদের দেশে উল্টো কয়েকগুণ দাম বাড়িয়ে দিচ্ছি। আমরা কি আসলেই আমাদের মানবিক মূল্যবোধ ভুলে যেতে বসেছি?


মানুষকে ঘরে আটকে রাখুন, লকডাউন করুন, কারফিউ জারি করুন—করোনাভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ও মানুষের ব্যক্তিগত আলোচনায় এগুলো এখন বহুল উচ্চারিত শব্দে পরিণত হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের রোগী ধরা পড়ার পর সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্ত মানুষকে ঘরে রাখার জন্য যথেষ্ট কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। যথেষ্ট সময় পাওয়ার পরও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি কি পর্যাপ্ত ছিল? আমরা দেখেছি শুরু থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ুক—এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ছিল না সরকার। অর্থনীতির চাকা যাতে অচল হয়ে না পড়ে, সে বিবেচনাও ছিল। গত ১৫ দিনেই শুধু বিদেশ থেকে এসেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবেই, কোয়ারেন্টিনে আছে ১৭ হাজার মানুষ, যাঁদের অধিকাংশ বিদেশফেরত। তাহলে বাকিরা কই? তাঁদের অনেকেই হাটে, ঘাটে, মাঠে, বাজারে, শপিংমলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ রীতিমতো ধুমধাম করে বিয়ে-শাদি করেছেন। আমরা যদি আমাদের ক্ষতির জন্য এইভাবেই উঠে পড়ে লাগি তাহলে সরকার কি করবে? আমরা কি আমাদের নিজেদের জন্য কিছুই করতে পারি না? অন্তত এইটুকু বলতে পারি আমরা আর কিছু করতে পারি আর না পারি অন্তত ঘরে বসে তো থাকতে পারি।
তাই একটি কথা বলতে চাই অন্তত এই কয়েকটা দিন ঘরে বসে থাকুন, সরকারকে সহযোগিতা করুন।

লেখক: খাজা খায়ের সুজন, ছাত্রনেতা ও সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/