• মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত! চিফ হুইপের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা, গ্রেফতারকৃত জাহিদ ৩ দিনের রিমান্ডে মামুনুল ও ফয়জুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ রামগঞ্জে পৌর সোনাপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়সাল মালের নির্বাচনি মোটরবাইক শোডাউন জোনাকি পোকা হিংসে হয় দিবালোকের প্রতি!! রামগঞ্জে পৌর নির্বাচনে সোনাপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজুকে পুনরায় নির্বাচিত করার লক্ষে আলোচনা সভা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতা দেখালে জবাব দেবে ছাত্রলীগ নড়াইলের চৈতী রানী বিশ্বাস কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নোয়াখালীতে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল সংবর্ধিত! রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি অনুমোদন

বর্ণিল আতশবাজিতে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ ও সাবেক বোমাবাজি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০

আমাদের যাদের ৯০ দশকে বা তারপর জন্ম, আমরা মূলত ২০০০ সালের পর থেকে দেশ ও সমাজের বিষয়গুলিকে কিছুটা বুঝতে শিখেছিলাম। আর এখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছি। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছি। এখন আমাদের মননে মগজে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা খুব ভালোভাবে দাগ কাটে। ডিজিটাল বাংলাদেশের এযুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ আমাদেরকে আরও বেশি সচেতন করে তুলেছে। বলতেই পারি, আমরা আধুনিক তরুণ ডিজিটাল প্রজন্ম।

আমরা চলতি বছরের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছি। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ১৭ মার্চ রাত ৮ টায় সারা বাংলাদেশে একযোগে বর্ণিলভাবে উল্লেখযোগ্য স্থান যেমন: সংসদ ভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, রবীন্দ্র সরোবর, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ভবনের সামনে, ক্যান্টনমেন্টে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল আতশবাজির মাধ্যমে জন্মদিনের উদযাপনটা আমাদের মনে ব্যাপক দাগ কাটে। দাগ কাটার কারণটি একটু অন্যরকম। ওই যে আমরা যারা এই বয়সী, তারা ২০০০ সালের পরের সময়টি থেকে খুব সুন্দরভাবে বুঝতে শিখেছিলাম। ওই সময় আমরা কৈশোরে পদার্পণ করেছিলাম।

২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট রোজ শনিবার সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ওইদিন সকাল ১১টা থেকে সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ৬৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে এই হামলা করা হয়। সেই ভয়াল চিত্রটি এখনো আমদের কৈশোর বয়সের স্মৃতিতে দগদগে ক্ষত স্থান করে আছে। যেটি ওই বয়সে আমাদের মনে মারাত্মক ভয় ও আতঙ্কের স্মৃতি তৈরি করেছিল। যেটিকে এখন বলা যায় তৎকালীন বিএনপি সরকারের ত্রাসের আতশবাজির মাধ্যমে হীন উদযাপন। আমি তখন নবম শ্রেণির ছাত্র। ক্লাস থেকে বের হয়ে সবার মুখে মুখে শুনি বিএনপির এই বর্ণিল আয়োজনের কথা। চারিদিকে ছুটে চলা মানুষের মধ্যে দেখা যায় এক উদ্বেগ। মুখে ভয়ের ছাপ নিয়ে চারদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে আবাল, বৃদ্ধ, বনিতারা। শুধু তাই নয়, তার কিছুদিন পূর্বেই ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট এর গ্রেনেড হামলা হয় ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে। যে হামলায় সেদিন নিহত হয় ২৪ জন মানুষ এবং আহত হয় প্রায় ৩০০শ লোক। মৌলবাদীদের সমালোচনা করার কারণে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ স্যারের উপর হামলা হয় একুশে বই মেলা থেকে বের হওয়ার সময়। যে হামলার কারণে ওই বছরের ১১ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যার মারা যান স্যার। এই বিষয়গুলো বিএনপি’র আমলে যেন ছিল এক নতুন নতুন ত্রাসের আয়োজন।

এ প্রত্যেকটি ঘটনা মূলত ঘটেছিল তৎকালীন সরকারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। প্রত্যেকটি ঘটনা পেয়েছিল রাষ্ট্রীয় মদদ। যেমন; ২১শে আগস্ট এর গ্রেনেড হামলাকে রাষ্ট্র ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই সময়কার সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে মঞ্চায়ন করেছিলো জর্জ মিয়া নাটকের। এইরকম আরও ইস্যুতে আমরা তৎকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের বলতে শুনেছি, ‘দেশে বাংলা ইংরেজি ভাই বলে কোন ভাই নেই’, ‘উই আর লুকিং ফর শত্রুস’ ইত্যাদি। এই রকম রাষ্ট্রীয় অপরাধীদের মদদ দেয়া বিএনপি সরকারের নতুন কিছু নয়। বলা যায়, এটিই তাদের জন্মের ইতিহাস। জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর সবার আগে যে কাজটি করেছিলেন, সেটি হচ্ছে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা। যেটি প্রমাণ করে ক্ষমতায় বসে অপরাধীদের আশ্রয়দান ও সন্ত্রাসীদের মদদই হচ্ছে এই বিএনপি’র জন্মের ইতিহাস। যেটি তারা করে গিয়েছিল ২০০১-২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে।

সেই সময় আমরা এই বাংলাদেশকে দেখেছিলাম বোমাবাজি ও সন্ত্রাসের এক ‘বর্ণিল’ আয়োজনে। বোমাবাজির মাধ্যমে যে কারো কণ্ঠরোধ করে দেয়া, বিরোধীদল তথা যেকোন বিরোধী শক্তিকে দমন করা ইত্যাদি। যার ধারাবাহিকতা তারা রেখেছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এটি বিএনপি নামক এই দলটির আরেকটি বোমাবাজির নজির। সবকিছু বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, তারা যেন এই বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, বোমাবাজদের দেশ বানানোর অপেক্ষায় থাকে।

১৭ মার্চ সারাদেশে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উৎযাপন করছে। এই স্বতঃস্ফূর্তভাবে একদিনে আসেনি। এটি এসেছে, একজনের হাত ধরে, তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায়। তাঁর এক একটি যুগান্তকারী ইশতেহার ও ঘোষণার মাধ্যমে। তিনি হলেন বর্তমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত শিক্ষার্থীদের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তিনি এই তরুণ তুর্কীদের নিয়েই শুরু করেছেন এই বাংলাদেশ গড়ার কাজ। দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে আর প্রথম সুযোগ পাবার পর তিনি আবার শুরু করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সুসংঘটিত করার কাজ। তিনি প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া এই ছাত্র সংগঠনকে দীক্ষা দেন যার শপথ শ্লোগান ছিল-

‘অস্ত্র ছেড়ে কলম ধর সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়।’

তিনি প্রথমে এই ছাত্রলীগের তরুণদের হাতে তুলে দিলেন কলম। যা ছাত্ররাজনীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। যাকে বলা যায় বোল্ড ডিসিশন অব লিডার। এটি ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এরই ধারাবাহিকতায় এই তরুণদের মুখে আসে নতুন শ্লোগান, তাদের মুখে প্রতিধ্বনিত হয় আবারও-

‘মুজিব আমার চেতনা মুজিব আমার বিশ্বাস।’

শেখ হাসিনা এসে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে শুরু করলেন দেশ গড়ার কাজ। শেখ হাসিনা অনুধাবন করেছিলেন, যদি একটি মানুষের ক্ষতি হয়, সেটি হবে বাংলাদেশের ক্ষতি। ২৫-৩০ বছর বয়সী ছাত্রনেতাদের শেখ হাসিনা শিখিয়েছেন, ‘আদর্শ হবে বঙ্গবন্ধুর, আর নিজেকে তৈরি করতে হবে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা’।

যেটি মূলত আজ সম্ভব হচ্ছে এই তরুণদের মাধ্যমেই। আমরা এই বাংলাদেশকে দেখছি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আতশবাজির মাধ্যমে দেশের আনন্দের মুহূর্তগুলোকে উদযাপন করতে। আমরা পারছি নিশঙ্ক চিত্তে উন্নয়নের দিকে ধাবমান হতে। তাই আমরা আনন্দের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে উদযাপনের সময় দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে সুর মিলিয়ে একসাথে শপথ নিয়ে বলতে পারি-

‘পিতা তুমি ঘুমাও শান্তিতে, তোমার বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা জেগে রইবো তোমার আদর্শ বুকে নিয়ে।’

লেখক: খাজা খায়ের সুজন, ছাত্রনেতা ও সাবেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/