• সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
চিফ হুইপের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা, গ্রেফতারকৃত জাহিদ ৩ দিনের রিমান্ডে মামুনুল ও ফয়জুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ রামগঞ্জে পৌর সোনাপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়সাল মালের নির্বাচনি মোটরবাইক শোডাউন জোনাকি পোকা হিংসে হয় দিবালোকের প্রতি!! রামগঞ্জে পৌর নির্বাচনে সোনাপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজুকে পুনরায় নির্বাচিত করার লক্ষে আলোচনা সভা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতা দেখালে জবাব দেবে ছাত্রলীগ নড়াইলের চৈতী রানী বিশ্বাস কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নোয়াখালীতে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল সংবর্ধিত! রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি অনুমোদন রামগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মনির হোসেন রানার মতবিনিময় সভা

লক্ষ্মীপুরে কাঁটা তারের বেড়ায় বন্দি পরিবার

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় প্রভাবশালীদের তোপের মুখে ও প্রতিহিংসায় প্রশাসনের একক সিদ্ধান্তে তার কাঁটার বেড়াঁয় বন্দি হালিমা বেগমের পরিবার।
ঘটনাটি ঘটে. লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর মজুপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর বাড়ীতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হালিমা বেগম পরিবার নিয়ে ওয়ারিশী ও লীজকৃত সম্পত্তিতে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত পৌর ১নং ওয়ার্ডের উত্তর মজুপুর গ্রামে বসবাস করে আসছে। কিন্তু কয়েক বছর আগে তাদের পাশে তোফায়েল আহম্মদ (ডিসি অফিসের ড্রাইভার) কিছু সম্পত্তি লিজ ও সাবকাবলা মূলে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে নেমে আসে হালিমা বেগম সহ আশপাশের অনেক পরিবারের দুর্দশা। সে আশপাশের সবার সম্পত্তির উপর সম্পত্তি পাবে উল্লেখ করে মানুষকে হয়রানী করা শুরু করে। সে পরিপ্রেক্ষিতে হালিমা বেগমের কিছু সম্পত্তি নামজারি করে প্রশাসন দিয়ে হয়রানী এমনকি জোরপূর্বক জমির পরিমাপ করে তাঁরকাটা দিয়ে হালিমা বেগমের পরিবারকে গৃহ বন্দি করে রাখেন।
হালিমা বেগম বলেন, যে ভূমিতে প্রশাসন তাঁর কাটার বেড়াঁ দিয়েছে সেই ভূমিটি আমার পিতা একেএম সহিদ উল্যাহ্ ১৯৫৮ সনে ১৮২/১৮৫/১৮৭/১৮৮ মোট ৪ দাগে ২০ শতাংশ ভূমি খরিদ করেন রাজকুমার দাস থেকে। যাহার দলিল নং-২২৩৫, সিএস খতিয়ান ১৪৬, এস এ খতিয়ান ১৬০। সেই জমিটি সাবকাবলা দলিল মূলে ১৯১২ সনে আমার নামে হেবা করেন দেন আমার পিতা একেএম সহিদ উল্যাহ্। কিন্তু ২০০৫ সালে আমাদের প্রতিবেশী প্রভাবশালী তোফায়েল আহম্মদ (ডিসি অফিসের ড্রাইভার) ফাতেমা বেগম এর নামে ৮শতাংশ করে ২টি দলিলে ১৬ শতাংশ ভূমি রেজিষ্ট্রি করে নেন। যাহার দলিল নং ৩৯৮২, ৩৯৮৩। কিন্তু এ দলিল মূলে তোফায়েল আহম্মদ এ জমিটি নামজারি-জমাখারিজ করে নেন। কিন্তু তোফায়েল আহম্মদ যেসব ওয়ারিশগণ থেকে ভূমি খরিদ করেন সেই সম্পদগুলো তার পূর্ব পুরুষরাই সম্পদের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে তোফায়েল আহম্মদ আমার দলিলকে ভূয়া দলিল বলে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি নোয়াখালী পুলিশ ইনভেসটিগ্রেশন ব্যুরো (পিআইবি) কে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেন। পরে পিআইবি’র রিপোর্টে আদালত আমার দলিল সঠিক বলে মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে আমি ফাতেমা আক্তার নামে যে দলিল জমাখারিজ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। বর্তমানে আদালতে আমার বন্টনের মামলা, জমাখারিজের মামলা, দেওয়ানী মামলাসহ মোট তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।
এরপর তোফায়েল আহম্মদ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমাদের বিরুদ্ধে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধে গাল-মন্দ এমনকি হুমকি-ধুমকি দেওয়া হচ্ছে মর্মে ভূয়া দরখাস্ত দায়ের করেন। যাহার নং ৪২৬, তারিখ-১১/১২/২০১৯ইং। যার ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা বিনা নোটিশে ১৩/০২/২০২০ইং তারিখে আমাদেরকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে এ্যাডভোকেট সুব্রত কুমার কুন্ড এর স্বাক্ষরিত একটি লিগ্যাল নোটিশ গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং তারিখে প্রেরণ করি। যাতে উল্লেখ রয়েছে আমার মোয়াক্কেলের স্বত্বদখলীয় সম্পত্তি সংক্রান্ত দেওয়ানী আদালতে মামলা চলমান এমতাবস্থায় উক্ত সম্পত্তি হইতে আমার মোয়াক্কেলকে অবৈধভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে বেআইনী বটে। এমনি অবস্থায় আপনি লিগ্যাল নোটিশ খানা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হইল, অন্যথায় আমার মোয়াক্কেলের আইনী অধিকার রক্ষার নিমিত্তে, উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের পরামর্শ আমার প্রতি রহিয়াছে এবং সেক্ষেত্রে উদ্ভুত সকল দায়দায়িত্ব আপনার উপর বর্তাইবে। বিরোধী সম্পত্তির তফসিল- জেলাঃ লক্ষ্মীপুর, উপজেলা লক্ষ্মীপুর এর অধীন ৭৬নং মজুপুর মৌজায় সিএস নং ১৪৬, এসএ নং- ১৬০, দাগ নং- ১৮২/১৮৫/১৮৭/১৮৮ মোট ৪ দাগে জমির পরিমান ০.২০ একর।
অথচ এ তিনটি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং লিগ্যাল নোটিশ তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুর সদর ভূমি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বিনা নোটিশে আমাদের অবগত না করে বিভিন্ন সময় আমাদের বসতি সম্পত্তি পরিমাপ করে তাঁর কাটার বেড়াঁ দিয়ে আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমরা উনার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ সম্পত্তি নাকি ভিপি সম্পত্তি হওয়ায় তিনি পরিমাপ করার জন্য আসেন। আমাদের এ সম্পদ তোফায়েল আহম্মাদ স্ত্রী ফাতেমা আক্তার নামে নামজারি হওয়ায় ফাতেমা আক্তারকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও তিনি করেন। এমনকি তিনি তোফায়েল আহম্মদ সাথে যোগাযোগ করে সম্পত্তি বাগ/বাটোয়া করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এ সম্পত্তি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে তিনটি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কিভাবে আমাদেরকে সম্পত্তি পরিমাপ করে তাঁর কাটার বেড়াঁ আমাদের অবরুদ্ধ করেন যা আমাদের ভোদগ্রম্ভ নয়। বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি।

তোয়ায়েল আহম্মদ জানান, আমি এবং হালিমা বেগমের পতি মোঃ ইউসুপ আমরা ২জন জেলা প্রশাসকের কর্মচারী। আমাদের ২জনের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করি আমাদের ২জনের মধ্যে সম্পত্তি বন্টন করে দেওয়ার জন্য যাতে আমাদের মধ্যে কোন ধরনের বিরোধ না হয়। পরে বোরবার জেলা প্রশাসক সদর ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পত্তি পরিমাপ করে। আর সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০) তাঁর কাটার বেড়াঁ দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর ভূমি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, আমরা সরকারি সম্পদ উদ্ধারের জন্য পরিমাপ করার জন্য এসেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/