• বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন কোম্পানীগঞ্জে ঋণের দায়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা! ডুবাইয়ে ইস্কান্দার মির্জা শামীমকে সম্মাননা প্রদান বিকাশ প্রতারকের সঙ্গে প্রেম করে টাকা উদ্ধার করলেন কলেজছাত্রী কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত!

হলুদ সাজে সেজেছে কোম্পানীগঞ্জের বিস্তৃর্ণ এলাকা!

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০



নুর উদ্দিন মুরাদ:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছোট ফেনী নদী কূলবর্তী চর গুলো জুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদ চাদরে ঢাকা পড়েছে বিস্তৃত প্রকৃতি। শীতের শিশির ভেজা সকালে কুয়াশার চাদরে ঘেরা বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কেবল চোখে পড়ে সরিষার হলুদ ফুলের দিগন্ত বিস্তৃত প্রকৃতি। প্রান্তর জুড়ে উঁকি দিচ্ছে শীতের শিশির ভেজা সরিষা ফুলের দোল খাওয়া গাছগুলো।

সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে। এ এক অপরুপ সৌন্দর্য। যেন প্রকৃতি কন্যা সেজেছে ‘গায়ে হলুদ বরণ সাজে’। চারপাশের মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ।

চরাঞ্চলের মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সমরাহ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর  প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পন এ অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর এক মূহুর্ত। ভোরের বিন্দু বিন্দু শিশির আর সকালের মিষ্টি রোদ ছুঁয়ে যায় সেই ফুলগুলোকে।

সরিষা চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভ বেশি হওয়াই সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন উপজেলার কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এখন শুধু ভালো ফলনের আশায় উপজেলার কৃষকেরা পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও। এদিকে চলতি রবিশস্য মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সরিষার পাশাপাশি আলু, গম ও ভুট্টা ও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা সরিষা যথা সময়ে ঘরে তুলতে পারলে এবং বিক্রয় মূল্য ভাল পেলে আগামীতে আরো বেশি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ২২ হেক্টর  জমিতে সরিষা মাঠে চাষ হচ্ছে। শুরুতেই সরিষা ক্ষেতে পোকামাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে সরিষা চাষীদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতার কারণে সরিষা ক্ষেত অনেকটা রোগবালাই মুক্ত হওয়ায় এতে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়,এখন মাঠে শীতকালীন শাকসবজি ১০২০ হেক্টর, আলু ৩ হেক্টর, মশুর ১৫০ হেক্টর, আখ ৩ হেক্টর, ভুট্টা ২০ হেক্টর, মুগ ১৬০ হেক্টর, সরিষা ২২ হেক্টর, চীনা বাদম ১১৫ হেক্টর,সূর্যমুখী ৫ হেক্টর, মরিচ ১৫০ হেক্টর, ভাংগি ২০ হেক্টর, মটর ৮০ হেক্টর,মিষ্টি আলু ৩০ হেক্টর, তরমুজ ৪০ হেক্টর, সয়াবিন ৫ হেক্টর, রসুন ৩৫ হেক্টর, পেঁয়াজ ২ হেক্টর,বোরো ধান (উফশী -হাইব্রিড) ১২৭০ হেক্টর জমিতে চাষ অবস্থায় রায়েছে। ঘূর্নিঝড় বুলবুলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দুবার কৃষকদের প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। প্রথম বার ভুট্টা, সূর্যমুখী ও চীনাবাদম ও পরের বার ভুট্টা -শাকসবজি ও মুগ এবং আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

কৃষক আবদুর রহিম মিয়া জানান,বেশ কিছু জমি নির্দিষ্ট সময়ে চাষের উপযোগী না হওয়ায় আমরা অনেক কৃষক ঠিক সময়ে সরিষা বপন করতে পারেনি। ফলে অন্যান্য রবিশস্য চাষের দিকে অনেকে ঝুকেছেন।  প্রান্তিক চাষীরা কিছুটা বাধ্য হয়েই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ভুট্টা,সূর্যমুখী, চীনাবাদম,সবজি,মুগ, সরিষা,বুট, আলু ও গম চাষে অতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এব্যাপারে উপজেলার উত্তর মুছাপুর এলাকার কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি মৌসুমে আমি ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলে প্রতিএকর জমিতে অন্তত ৮ মণ হারে সরিষা উৎপাদন হবে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পুষ্পেন্দু বড়ুয়া ‘আমাদের নতুন সময়’কে জানান, এবার অনেক কৃষকই সরিষা চাষ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু সময়মত চাষাবাদস্থল উপযোগী ছিলোনা বলে অনেক কৃষক স্বিদ্ধান্ত বদলে মুগ,ভুট্টা, চীনাবাদম,সূর্যমুখী, গম চাষের দিকে গিয়েছে। তবে ২২-২৫ হেক্টর জমিতে যে সরিষা করা হয়েছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে ও কৃষক বাড়তি মুনাফা পাবে বলেও মনে করেন তিনি।



নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/