• মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
পাপিয়ার ঘটনাই শেষ নয়, আরও ১৫৩ অপকর্মকারীর তালিকা শেখ হাসিনার হাতে! পত্নীতলা ছাত্রলীগের সভাপতি বিলাশ, সম্পাদক তাসরিফ নোয়াখালীতে এসএসসি ও এইচএসসি ০৪/০৬ ব্যাচের পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে ইসকন মন্দির চট্টগ্রামে ওয়াহিদ বিন চৌধুরীর সারপ্রাইজ নাটকে জনপ্রিয় মুখ এ আর টিটু মা যাদের রেঁধে খাওয়াতেন, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হ’ত্যা করেছে: প্রধানমন্ত্রী ১৫০ টাকায় চুল বিক্রি করে ক্ষুধার্থ সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিলেন মা কোম্পানীগঞ্জে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত! কোম্পানীগঞ্জে গরুচুরি মামলায় গ্রেফতার-১

রাতের বেলা পথশিশু পড়াশুনা মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে মো: বিল্লাল হোসেন

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

একটি শিশু জন্মের পর তার শৈশব কৈশোর পার করে নানা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে। কেউ সুখে শান্তিতে কেউ বা আবার দুঃখ কষ্টে এবং ক্ষুধার যন্ত্রণায়। যখন শিশুটির স্কুলে যাবার বয়স হয় তখন দেখা যায় নামিদামি স্কুলের সামনে দামি দামি গাড়ির লম্বা লম্বা লাইন। অন্য দিকে গরিব দুঃখী সেই শিশুটি গাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া তো দূরের কথা, স্কুলে ভর্তিও হতে পারে না টাকার অভাবে। যখন তার খেলাধুলা করার বয়স, তখন তাকে কাজ করতে হয় অর্থ উপার্জনের জন্য। বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর।

বাস্তবতা একজনকে সুখ দেয় আবার অন্যজনকে দেয় দুঃখ। এছাড়াও তাদের পারিবারিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অনেক শিশুরই বাবা-মা নেই। আবার অনেকের বাবা অথবা মা নেই। আর যাদের বাবা-মা আছে, কিন্তু তাদের উপার্জনে সংসার চলে না। যার জন্য এসব শিশু নিজের খাবারের জন্য, পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত হয়। জীবনের তাগিদে কেউ পথশিশু, কেউ আবার শ্রমজীবী।

পথশিশু ও শ্রমজীবী শিশুর জীবন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বেশিরভাগ শিশুরা বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকে। এরাই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এসব শিশুর মধ্যে সিংহভাগই বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে, এমনকি মাদকজাত দ্রব্যের ব্যবসাও করে। পথশিশুর জীবন পথেই কাটে। যার ফলে এদের সঠিক পথ প্রদর্শক থাকে না। এসব শিশুদের বেশিরভাগ দেখা যায় রেল লাইনের পাশে, ফুটপাতে, রাস্তায় মোড়ে বিভিন্ন পাড়া বা মহল্লার অলিগলিতে। এরাই বড় হয়ে সন্ত্রাসে পরিণত হয় এবং দেশে সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা। অপরদিকে শ্রমজীবী শিশুদের বেশিরভাগ দেখা যায় খাবার হোটেলে, ওয়ার্কশপে এবং বিভিন্ন কলকারখানায়। এসব শ্রমজীবী ও পথশিশুরা মনের মধ্যে নানা স্বপ্ন আঁকে। কিন্তু তারা জানে তাদের এই সাদা কালো স্বপ্ন কোনদিন রঙিন হবার নয়। এসব শিশুদের এ বয়সে খেলাধুলা করার কথা ছিল, কথা ছিল পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার। কেন তাদের এ বয়সে কাজের সন্ধানে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। কেন তাদের এত কষ্টের পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আমাদের কি তাদের জন্য কিছুই করার নেই?  ।  তারা তো চায় পড়ালেখা করতে কিন্তু তার পড়ালেখার খরচ,কে দেবে? কে দিবে তাদের খাবার?  কেন এই বৈষম্য। একটি শিশুর পড়ালেখার পেছনে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করা হয় অন্য দিকে আরেকটি শিশু পড়ালেখা করা তো দূরের কথা দুমুঠো খাবারও পাচ্ছে না।

ধনী বিলাসী ব্যক্তিদের ছেলে-মেয়েরাই কি শুধু নামিদামি স্কুলে পড়বে, তাদের কি শুধু ভবিষ্যৎ আছে? ওরাই কি শুধু রঙিন স্বপ্ন দেখবে। আর গরিব দুঃখী শিশুদের কি কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাদের কি কোনো স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই? নাকি স্বপ্ন দেখা তাদের জন্য মহাপাপ। এসব গরিব দুঃখী পথশিশুও তো মানুষ, মানব সন্তান। তাদেরও তো স্বপ্ন আছে, তারাও তো স্বপ্ন দেখে। এই শিশুগুলির স্বপ্ন আশা কি পূরণ হবার নয়। আমরা কি তাদের এসব স্বপ পূরণ করতে পারি না? আসুন সবাই মিলে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব এই দেশে ঐক্যবদ্ধ হই। তাদের জন্য কাজ করি, যারা দু বেলা দু-মুঠো খাবার পায় না, যারা পড়ালেখা করার সুযোগ পায় না।তারা যেমন রঙিন স্বপ্ন দেখেছিল ঠিক তেমনি তাদেরও স্বপ্ন দেখাই, স্বপ্ন দেখতে শিখাই। উজ্জ্বল নক্ষত্রময়ী জীবন গড়তে তাদের সাহায্য করি। এসব শিশুদের স্বাধীন ও  সুন্দরভাবে জীবন ধারণের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তা না হলে আমাদের দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। 

প্রতিটি মানুষই চায় তার জীবন হোক সুন্দর এবং মুহূর্তগুলো হোক আনন্দদায়ক। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। আমাদের প্রকৃতি যেমন সুন্দর তেমনি সুন্দর মানুষের জীবন, মানুষের স্বপ্ন। তবুও কিছু স্বপ্ন হয়ে যায় রংহীন, বর্ণহীন। সেই সব রংহীন, বর্ণহীন স্বপ্নগুলোকে আমরা কি রাঙিয়ে দিতে পারি না আমাদের আত্মত্যাগ ও ছোট একটি ইচ্ছার মাধ্যমে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/