• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
কুয়েতের আমিরের মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক বৃহস্পতিবার আলোচিত বরগুনার রিফাত হত্যা, মিন্নিসহ ৬ আসামির মৃত্যুদন্ড, ৪ জন খালাস আফুরান সাহস আর ভরসার প্রতীক শেখ হাসিনা সালাউদ্দিন কে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! জনতার রাজনীতির এক যোদ্ধার নাম সম্রাট সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীগঞ্জবাসীর সংবর্ধনা! ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল রামগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২১ শে আগস্ট ও বিএনপির ঐতিহাসিক বিচারহীনতার চরিত্র

কেনো দেশরত্ন শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখবেন :

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে চারবার মন্ত্রিসভা গঠন করে আওয়ামী লীগ। এ চারবারই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে ব্যতিক্রম হয়েছেন একজন ব্যক্তি তিনি হলেন ওবায়দুল কাদের ।

আগামী ২০ ও ২১ তারিখ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। আর এই কাউন্সিলের মধ্য দিয়েই আসছে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগের আগামী নেতৃত্ব। দলটির সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই থাকছেন। তবে দল-মত নির্বিশেষে সবার কৌতূহল- কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক?

কিন্তু বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আস্থাভাজন হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরই আবারও সাধারণ সম্পদক পদে থাকছেন বলে জোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন বলে আ’লীগের একাধিক নীতিনির্ধারক বিভিন্ন মিডিয়াকে আভাস দিয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরের ওপর কয়েকটি কারণে আস্থা রাখবেন।

ওবায়দুল কাদের কলেজজীবন থেকে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন।

১৯৭৫ এর পর এক নাগারে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকাবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পর পর দুবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে মিছিল বের হয় তাতে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এ কারণে তৎকালিন সময়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।

ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার অনেক দিন পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন ছাত্রলীগকে একটি শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন হিসেবে তৈরি করার জন্য এবং তিনি সফল হয়েছেন বলে ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়।

১৯৮১ সালে দেশরত্ম শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরে আসেন তার নেতৃত্বে বাংলার ছাত্র সমাজ প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে যান। তারপর ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিয়েও দেশরত্ম শেখ হাসিনার আস্থা এবং বিশ্বস্ততার সহিত দল গঠনে কাজ করে গেছেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং সেখানে তিনি ছিলেন সফল।

ওবায়দুল কাদের ১২ জুন ১৯৯৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। একই দিনে যুব ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

নোয়াখালীর মত বিএনপির ঘাঁটিতে ফাটল ধরিয়ে ১৯৯৬ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হেভিওয়েট নেতা ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ কে হারিয়ে এমপি নির্রাচিত হয়েছেন এবং যুব ক্রীড়া ও সাস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

তারপর ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল বাংলাদেশের জন্য তথা আওয়ামীলীগের জন্য আরেক বিভীষিকাময় সময় পার করতে হয়েছে। সে সময় নেত্রীর পাশে থেকে দলীয় সকল কাজ দিন রাত পরিশ্রম করে পরম মমতায় সম্পন্ন করেন, যা তাঁকে নেত্রীর আস্থা অর্জনে সহায়তা করেছে।

২০০২ সালে আওয়ামীলীগের জাতীয় কাউন্সিলে নেত্রীর অনুমতিতে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। তারপর সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে আব্দুল জলিলকে সাধারণ সম্পাদক করলেন, আর নেত্রী ওবায়দুল কাদেরকে করেন ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নেত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ভালো ভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেন, নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কাজ করে গেছেন। ওবায়দুল কাদের নেত্রীর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করায় তাঁকে আওয়ামীলীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্য মনোনীত করলেন।

২০০৪ সালের ২১শে আগষ্ট দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা স্বরুপ গ্রেনেড হামলায় ওবায়দুল কাদেরও মারাত্বক ভাবে আহত হন, যার যন্ত্রণা তিনি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন।

১/১১ সরকারের সময় কাদেরকে গ্রেফতার করে নির্মম নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালিয়েও দলের বিপক্ষে কিছু বলাতে পারেনি তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকার। তারপর মুক্তি পেলেন ২০০৮ সালের নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে। আবারও তিনি নির্বাচনী যুদ্ধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদকে হারিয়ে বিজয়ী হন। নেত্রীর আস্থা অর্জন করায় ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে নেত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সভাপতি মণ্ডলির সদস্য মনোনিত করেন।

হঠাৎ করে বাংলাদেশের বড় মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংক অর্থদান বন্ধ করে দিলে তখন নেত্রী প্রিয় ওবায়দুল কাদেরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেন।

দায়িত্ব পাওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যে তিনি তার কর্ম পরিকল্পনা ও সক্ষমতার মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করন এবং সরকারী বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে তিনি ব্যাপক পারদর্শিতার ছাপ রাখেন। বিশ্ব ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মানের কাজ এখন প্রায় সম্পন্নের পথে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি জামায়াতের তান্ডব লীলার সময় যখন আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর কার্যালয় নেতা কর্মী শূন্য হয়ে পড়েছিল, তখন সেই সময় প্রিয় নেত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়মিত পার্টি অফিস এবং দলের সকল কার্যক্রমে কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে নেত্রীর নির্দেশে নিয়মিত পার্টি অফিসের নেতা কর্মীদের নিয়ে সরগরম করে রাখেন এবং সারা দেশের নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং শক্ত হাতে বিরোধী দলীয় আন্দোলন দমনে সফল হন।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার কিছু দিন পর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হয়। সেই মুহুর্তে নেত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উপজেলা নির্বাচন বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেন এবং পরবর্তি ধাপের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সফলতা অর্জন করে।

নেত্রী আস্থা ও বিশ্বাস রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ের লক্ষ্যে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেন, সেখানেও তিনি সফলতার পরিচয় দেন।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রিয় নেতা জনাব ওবায়দুল কাদেরকে সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম কে পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মত ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন ।
প্রিয় নেতা জনাব ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর জেলা উপজেলায় সাংগঠনিক সফর করে সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষে দিন রাত করে যাচ্ছেন ।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ হলে, নেত্রী শেখ হাসিনা তড়িৎ ভাবে তাঁর চিকিৎসার পদক্ষেপ নেন এবং ভারত থেকে ডাঃ দেবী শেঠীর মত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষ্ণকে নিয়ে এসে তাঁর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন।

তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হওয়ায় ডাঃ দেবী শেঠীর পরামর্শ অনুযায়ী এয়ার এ্যাম্বুলেন্স যোগে তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে প্রেরণ করে তাঁর চিকিৎসা করান। প্রতিনিয়ত তাঁর চিকিৎসার বিষয়টি বাংলাদেশে থেকে মনিটরিং করেন।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ওবায়দুল কাদের এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১৫ মে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর থেকেই পুরোদমে দলে ও সরকারে কাজ করছেন ওবায়দুল কাদের।

এমনকি তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে দৈনিক দুইবার যান এবং সকল নেতা কর্মীদের অভিযোগ অনুযোগ শুনে সমাধান করার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগের দীর্ঘ ১২-১৩ বছর পরে সফলভাবে সম্মেলন আয়োজন করেন। কিছুদিন আগে যুবলীগ, কৃষকলীগ ,শ্রমিকলীগ ,সেচ্ছাসেবক লীগ, ও ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিন শাখা সহ প্রায় ৩০টি জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করেন। সবগুলো জেলায় সাংগঠনিক সফর করে সংগঠনের গতিশীল করেন।
সর্বোপরি বিগত জাতীয় নির্বাচনে দলকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তুখোড় রাজনীতিবীদ ওবায়দুল কাদের।

দলের হাইকমান্ডের সূত্রমতে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তিনি সারা দেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। দলীয় কাজে তার প্রতি অনেকটাই সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সে হিসেবে ধরেই নেয়া যায়, প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরকে ফের সাধারণ সম্পাদক রাখতে পারেন ।

লেখক: মো: নুরুল করিম জুয়েল

সাবেক সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

সাবেক সহ-সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/