• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
সালাউদ্দিন কে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! জনতার রাজনীতির এক যোদ্ধার নাম সম্রাট সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীগঞ্জবাসীর সংবর্ধনা! ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল রামগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২১ শে আগস্ট ও বিএনপির ঐতিহাসিক বিচারহীনতার চরিত্র কোম্পানীগঞ্জসহ আরও ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চূড়ান্ত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী ঘটেছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মুক্তিকামী সকল মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ

বছর ঘুরে ফের ঢাবির সমাবর্তন

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

ঢাবি প্রতিনিদি: আইনুল ইসলাম মাহবুব

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ তম সমাবর্তন আজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয় একটি দিন অতিবাহিত করতে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সময়ের গ্রাজুয়েটগণ। আনন্দ-উল্লাস আর আবেগ-অনুভূতি কে ঘিরে ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক আওযাজে মুখরিত হয়ে উঠবে আজ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সমাবর্তনের সেই চিরচেনা পোশাক, কালো গাউন আর কালো হ্যাট পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত-অপরাজেয় বাংলা, কার্জন হল, দোয়েল চত্বর, সায়েন্স লাইব্রেরী, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন, সিনেট ভবন, রাজু ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, টিএসসি, হাকিম ও মিলন চত্বর, মধুর ক্যান্টিন সহ প্রতিটি স্মৃতি জড়িত স্থান গ্রাজুয়েটগন তাদের ক্যামেরার ফ্রেমে বন্ধী করে রাখবেন। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচটি বছর এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিবাহিত করার পর আজ তাদের এই সর্বোচ্চ স্নাতক ডিগ্রী অর্জন।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে দিনটি যেমন একদিকে আনন্দের আর সম্মানের তেমনি একটু বেদনাবিধুরও বটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করে এক দেদীপ্যমান সম্ভাবনাময় নতুন চ্যালেঞ্জিং জীবনে পদার্পণ করতে যাচ্ছে নবীন গ্রাজুয়েটগন।

প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসে সমাবর্তন সম্পর্কে জানা যায়। হিন্দু ধর্মীয় স্মৃতিশাস্ত্রে সমগ্র মানব জীবনে ১০ প্রকার সংস্কারের কথা উল্লেখ আছে যেটিকে বলা হয় দশবিধ সংস্কার। যেগুলোর মধ্যে উপনয়ন ও সমাবর্তন হলো শিক্ষা বিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।
উপনয়ন’ শব্দের অর্থ ‘নিকটে নিয়ে যাওয়া’। যে অনুষ্ঠানের পর ছাত্রকে বিদ্যাশিক্ষার জন্য গুরুর নিকটে নিয়ে যাওয়া হত তার নাম ছিল উপনয়ন। বর্তমানে এই উপনয়ন সংস্কারটি এখনো আমাদের সমাজে ভিন্ন রূপে আছে। যা,হিন্দু সমাজে হাতেখড়ি নামে একটি অনুষ্ঠান দেখা যয়, যেটি সরস্বতী পূজার সময় হয়ে থাকে।

সমাবর্তন বলতে সাধারণতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি বলে বুঝায় । সমাবর্তন শব্দটি ইংরেজি কনভোকেশন (Convocation) শব্দের বাংলা অনুবাদ। কনভোকেশন শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে। এই দিনে শিক্ষা কার্যক্রমের সমাপন শেষে ছাত্রছাত্রীদের সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।প্রাচীনকালে শিক্ষার পাঠ শেষে গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হত তাকে ‘সমাবর্তন’ বলা হতো। এটি এখন ধর্মের সংস্কারের গন্ডি পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক এক বৃহৎ রুপ পেয়েছে।শিক্ষাজীবন তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পাঠ শেষ করে আনুষ্ঠানিক এই বিদায় অনুষ্ঠানকে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয় দিন সমাবর্তনকে বলে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের সমাবর্তনের হতিহাস থেকে জানা যায় , ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। তখন বাংলার তৎকালীন গভর্নর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড লিটন (রোনাল্ডশে সিআইই) সমাবর্তন ভাষণ দেন। এরপর ১৯২৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই (সর্বমোট ২৪ বার) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলে শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর।

পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ। ২৪ মার্চের সেই সমাবর্তনে কার্জন হলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার দাবীকে নাকচ করে দিয়ে সাথে সাথে তার এই আপত্তিকর ভাষণের প্রতিবাদে সমাবর্তন স্থলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ছাত্ররা দাঁড়িয়ে “নো নো” বলে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে, তারই ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন আরো বেশী জোরদার হয়ে উঠেছিল। ১৯৫২ সালের সমাবর্তনের তারিখ নির্দিষ্ট ছিল ২৪ ফেব্রয়ারি, কিন্তু ২১ ফেব্রয়ারির ঐ ঘটনায় তা আর হয়নি। সে বছর ১৭ ডিসেম্বর ঐ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ বার সমাবর্তন হয়।

১৯৬৪ সালের সমাবর্তন ছিল এক পন্ডময় সমাবর্তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সেবারই প্রথম কোন সমাবর্তনে চ্যান্সেলর ও ভাইস চ্যান্সেলর উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। কিন্তু, মোনায়েম খানের কাছ থেকে ডিগ্রি নিতে ছাত্র ছাত্রীরা অস্বীকার করলে এই সমাবর্তন পন্ড হয়ে যায়। পাকিস্তান আমলে সর্বশেষ ৩৯তম সমাবর্তন হয় ১৯৭০ সালের ৮ মার্চ।

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো (৪০তম) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমাবর্তন উদ্বোধন করার কথা ছিল; কিন্তু তার আগেই ভোররাতে ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি ফলে তখন সমাবর্তন স্থগিত করা হয়।

এরপর স্বাধীন বংলাদেশে প্রথম সমাবর্তন(৪০তম) অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর যা ছিল দীর্ঘ ২৯ বছর বিরতির পর। এরপর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে ২০০১, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১২ সালে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ৪ মার্চ ২০১৩ সালে। এটিও সমাবর্তন ইতিহাসের এক স্মরণীয় সংযোজন, সমাবর্তনের প্রধান বক্তা ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রথমবারের মত প্রথম সম্পূর্ণ বাংলায় সমাবর্তন ভাষণ দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১তম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সমাবর্তনে এক নতুন সংযোজন, অন্তর্ভুক্ত করা হয় ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজ।

উপাচার্য জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য ২০ হাজার ৭শ’ ৯৬জন গ্র্যাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন। অনুষ্ঠানে ৭৯জন কৃতী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৮টি স্বর্ণপদক, ৫৭জনকে পিএইচডি, ৬জনকে ডিবিএ এবং ১৪জনকে এম ফিল ডিগ্রি প্রদান করা হবে। অধিভুক্ত সাত কলেজের রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্র্যাজুয়েটগণ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। তাঁকে সম্মানসূচক Doctor of Science (Honoris Causa) ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সমাবর্তনের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গ্র্যাজুয়েটদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গ্র্যাজুয়েট এবং অতিথিদের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটবে বলে আমরা দুঃখিত। সমাবর্তন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় সহযোগিতা চাই।”


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/