• সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় ৫টি দেশ জড়িত

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ক ও ইরানের অগ্রগতি দমানোর জন্য  করার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  অনেক আগ থেকে পরিকল্পনা করে আসছে। ১৪ মাস আগে, এই কাজটি  যুবরাজের দায়িত্ব পাওয়া ক্রাউন প্রিন্স সালমানকে দিয়ে আমেরিকা করতে চেয়েছিলো।

সৌদি আরব এবং অন্যান্য আরব রাজ্যের রক্ষণশীলদের মুক্ত করার জন্য ইসরাইল ও আমেরিকান ধারায় আনা প্রয়োজনীয় ছিল।কিন্তু খাশোগির মত সমালোচকদের কারণে এইসব কাজে বাধা সৃস্টি হয়।

এর আগে আমেরিকার নিদের্শে, অনেকেই শায়েস্তা করা হয়েছে,  জামাল খাশোগির ক্ষেত্রে সবকিছু উল্টা-পাল্টা হয়ে যাই। এ মন্তব্য করেন বিখ্যাত সাংবাদিক এবং কলাম লেখক ইব্রাহিম কারজাল, তুর্কি দৈনিক ইনি সুফকের সম্পাদক ।

ইব্রাহিম কারজুল সাংবাদিকদের মন্তব্য করেন যে, সাংবাদিক জামাল খাসগীর হত্যার ঘটনায় 5 টি দেশে জড়িত থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইব্রাহিম কারজুল লিখেছেন যে, যে যাই বলুক না কেন,  আসল সত্য  হল,সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসগীরকে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

কিলিং স্কোয়াড কে আগে থেকেই জামাল খাশোগি কে  হত্যার জন্য ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়েছিল, এবং হত্যার দলের সবাই  সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ।সবচেয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ভয়ঙ্কর কিছু মানুষ এ দল টি গড়িত।

হত্যাকাণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া কিভাবে এবং কখন খাশোগিকে হত্যা করা হবে সবকিছু তাদের সুপারভাইজার দ্বারা নির্দেশিত ছিল। এমনিক  হত্যার চেষ্টা  কিভাবে ধামাচাপা দেয়া  যাই তার নির্দেশনা ও আগে থেকে নিধারণ করা হয়েছিল।

সৌদি আরবের বড় প্রকল্প এবং মধ্যপ্রাচ্যে ঐক্যবদ্ধ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার সহযোগীদের অংশ খাসগীর হত্যার অংশ।

যাই হোক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরীয়দের পাশাপাশি ইসরাইলি গোয়েন্দারা খসগীরকে হত্যা করার জন্য একত্রে কাজ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এই সব তথ্য আগে থেকে জানত। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিদের্শে ই এই কাজটি সম্পূণ  হয়েছিল। খাসগীর  মতো খুনের একই ঘটনা এর আগে অন্যান্য অনেক দেশে করা হয়েছে।

এই ঘটনাটা ঘটল তুরস্ক এ। ভূমধ্য সাগরের শক্তিশালী মুসলিম দেশ তুরস্ক কে এইবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

কিন্তু এই ঘটনায় এইবার আমেরিকা ও তার সঙ্গী- সাথীরা দারুল ভাবে ফেঁসে যাই ।

সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মুহাম্মদ বিন জায়েদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জামাতা কুশনার মধ্য প্রাচ্যে ক্ষমতা বিস্তার ও সংহত করার লক্ষ্যে “সম্পূর্ণ নতুন ও বড় প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছেন।

তাদের লক্ষ্য ছিল যারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে কথা বলবে বা সৌদি রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করছে এবং সমালোচনা করবে তাদের কে তারা চিরকালের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দিবে।

অনেক সমালোচকের  কণ্ঠস্বর   এইভাবে  লক্ষ্যবস্তু তে পরিণত করা হয়। খাসগি তাদের সর্বশেষ শিকার। এখন যদি এই দুর্বৃত্তদের মুখোশ উন্মোচিত না হয়, শাস্তি না দেওয়া হলে, একইভাবে অনেককে হত্যা করা হবে।

প্রকৃত ঘটনা হল এই লোকজন কেবল সৌদি নাগরিকদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। তালিকায় কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের নাগরিক রয়েছে।

ইজরায়েল ও আমেরিকা  জেরুজালেম  কে রাজধানী দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সে সংঙ্গে মক্কা ও মদীনার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইজরায়েল ও আমেরিকা একসাথে কাজ শুরু করেছে।

সৌদি প্রিন্সের পরিবার,  আমিরাতের শাসক বেন জয়েদ, মিশরীয় স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম এর পিছনে একযোগে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করার সত্ত্বেও, ট্রাম গত বছর ফিলিস্তিনের ইসরায়েলি রাজধানী হিসাবে ফিলিস্তিন ঘোষণা করে। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের শুধুমাত্র তুরস্ক দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করেছিল। পাশাপাশি, ওআইসি ও জাতিসংঘ এটির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগানের দৃঢ় অবস্থানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শক্তিশালী করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবকে হ্রাস করা এবং তুরস্ক  কে দুর্ব ল করা ।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায় এর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই ধাপের মূল কাজটি রক্ষণশীল ধারনাথেকে সৌদি সহ সমগ্র অঞ্চলকে মুক্ত করা এবং আমেরিকা ও ইজরায়েলি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

সৌদি ও আমিরতির দুই রাজকোষ ‘সামাজিক সংস্কার’ ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে তার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে আরব ব্লককে লেলিয়ে দেয়া, আষ্টেপৃষ্ঠে তুরস্কে কে বেধে ফেলা এবং প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার সরকারকে উৎখাত করা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরানকে থামাতে এতিমধ্যে সিরিয়া ও ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করেছে।

সৌদি প্রিন্স ও আমীরাতের শাসক বিন জয়েদ এর এই প্রকল্পটি খুশগগীর খুনের মতো ঘটনাগুলিতে সীমাবদ্ধ নয়, তবে এটি গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী।

পারস্য উপসাগর এবংলোহিত সাগরের মধ্যে সমগ্র মানচিত্রটি  পরিবর্তন করার পরিকল্পনাটি হত্যাকাণ্ডের চেয়ে আরও ভয়ানক। এই প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই অঞ্চলের সকল সরকারকে নিজেদের নিজের দলে অন্তভুক্ত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/