• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
সালাউদ্দিন কে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! জনতার রাজনীতির এক যোদ্ধার নাম সম্রাট সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীগঞ্জবাসীর সংবর্ধনা! ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল রামগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২১ শে আগস্ট ও বিএনপির ঐতিহাসিক বিচারহীনতার চরিত্র কোম্পানীগঞ্জসহ আরও ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চূড়ান্ত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী ঘটেছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মুক্তিকামী সকল মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ

অতি মুনাফাখোর ৪৭ ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশিত, গোয়েন্দা দপ্তরে তলব

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

অর্থনীতি ডেস্ক:
পেঁয়াজের কৃত্রিম সং’কট সৃষ্টি করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া অ-সাধু ব্যবসায়ীদের বিরু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে বাজার কার’সাজির সঙ্গে জড়িতদের অর্থ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে অর্ধশত সন্দেহভাজন ব্যবসায়ীকে তালিকাভুক্ত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসা’বাদের জন্য তলব করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রথম দফায় ১৪ জন পেঁয়াজ আমদানিকারককে ডাকা হয়েছে। তাদের গত ৩ মাসের আমদানি ও বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যসহ শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। মজুদদারির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অ-সাধু ব্যবসায়ীদের বিরু’দ্ধে শুল্ক আইনে মামলা করা হবে। এ ছাড়া তাদের অর্থ পা’চার সংক্রান্ত মামলার মুখোমুখিও করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সং’কট সৃষ্টির মাধ্যমে যেসব ব্যবসায়ী একটি অ-স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন, তাদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি। মজুদদারির সঙ্গে জড়িত অ-সাধু ব্যবসায়ীদের বিরু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, পেঁয়াজ আমদানির সঙ্গে যুক্ত বড় ধরনের আমদানিকারকরা সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। বিশেষ করে যারা গত ৩ মাসে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন তাদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এরকম ৪৭ জন ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তাদের আগস্ট থেকে নভেম্বর- ৩ মাসের আমদানি ও বিক্রি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যবসায়ীদের ২৫ নভেম্বর ঢাকায় শুল্ক গোয়েন্দার প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

শুল্ক গোয়েন্দা তলব সংক্রান্ত নোটিশে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের টিএম এন্টারপ্রাইজ নামের একজন আমদানিকারক ৯ হাজার ২০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেন। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যে এই আমদানিকারকের বিরু’দ্ধে কৃত্রিম সং’কটের মাধ্যমে অতি মুনাফার অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার তাকে নোটিশ পাঠায় শুল্ক গোয়েন্দা।

এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বাজারে কৃত্রিম সং’কট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত পেঁয়াজ অ’বৈধভাবে আপনি মজুদ করেছেন। আপনার বিরু’দ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছক মোতাবেক আমদানিকৃত পেঁয়াজের বিস্তারিত তথ্যসহ ২৫ নভেম্বর শুল্ক গোয়েন্দার ঢাকাস্থ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য বলা হল।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সন্দেহভাজন সব আমদানিকারককেই পর্যায়ক্রমে ডাকা হবে। একই সঙ্গে তাদের আয়কর ফাইলসহ অন্যান্য স্থাবর-অ’স্থাবর সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে।

৪৭ জনের তালিকা: শুল্ক গোয়েন্দার প্রাথমিক তালিকায় যে ক’জন আমদানিকারকের নাম রয়েছে তারা হলেন:-

মেসার্স দিপা এন্টারপ্রাইজ, প্রো: সুকুমার দাস, থানা রোড, ডাকবাংলা মোড়; মেসার্স আরএম এগ্রো, কানসাট বাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজ, ৪৭৩ আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; মেসার্স বিএইচ ট্রেডিং অ্যান্ড কোং, আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর; জগদিশ চন্দ্র রায়, সুপারিপট্টি, নওগাঁ; মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, গোয়ালপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; একতা শস্যভাণ্ডার, পুরাতন বাজার, কদমতলা ঘাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; মেসার্স ফুল মোহাম্মদ ট্রেডার্স, সাহেববাজার, রাজশাহী;

মেসার্স ফারাহ ইন্টারন্যাশনাল, কামালনগর, সাতক্ষীরা; মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ, লালমাটিঘাট লেন, রাজাবাজার, বগুড়া; হামিদ এন্টারপ্রাইজ, প্রো: আবদুল হামিদ সরদার, তালপট্টি; আলি রাইস মিল, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; খান টেডার্স, মাধবাসুদেবপুর, হিলি, হাকিমপুর; এসএম কর্পোরেশন, ৬১ বিজয়নগর ঢাকা; মেসার্স গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজ, আজাইপুর, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; মেসার্স রায়হান এন্টারপ্রাইজ, রাজাবাজার, বগুড়া;

মেসার্স সোহা এন্টারপ্রাইজ, ভোমরা স্থলবন্দর, সাতক্ষীরা; মেসার্স মরিয়াম এন্টারপ্রাইজ, ভোমরা সাতক্ষীরা; নুর এন্টারপ্রাইজ, প্রো: শাহিনুর রহমান শাহিন, ভোমরা; শামিম এন্টারপ্রাইজ, প্রো: শামিম হোসেন রাজা, ভোমরা, সাতক্ষীরা; মেসার্স খান ট্রেডার্স, মাধবাসুদেবপুর, হাকিমপুর, দিনাজপুর; মেসার্স এমআর ট্রেডার্স, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট; ডিএ এন্টারপ্রাইজ, ভোমরা, সাতক্ষীরা; মেসার্স টাটা এন্টারপ্রাইজ, শিবনগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, কলেজপাড়া, টেকনাফ;

মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ, পোলাডাঙ্গা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; সাহাভান্ডার, হাজী মহসিন রোড, দৌলতপুর, খুলনা; আরডি এন্টারপ্রাইজ, প্রো: পংকজ দত্ত, ভোমরা, সাতক্ষীরা; জনী এন্টাপ্রাইজ, ১৭/বি ফরাশগঞ্জ রোড ঢাকা; মাহি অ্যান্ড ব্রাদার্স, শাহপরীর দ্বীপ টেকনাফ; মেসার্স মুক্তা এন্টারপ্রাইজ, ভোমরা সাতক্ষীরা; মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স, রাজা বাজার, বগুড়া; মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ, ভোমরা স্থলবন্দর, সাতক্ষীরা; রিজু-রিতু এন্টারপ্রাইজ, আরামবাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ;

মেসার্স জাবেদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, ইসলামপুর ফেনী; মেসার্স আলম অ্যান্ড সন্স, আলিমাবাদ টেকনাফ; নিউ বড়বাজার শপিং মল, টেকনাফ; মেসার্স রচনা ট্রেডার্স, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান, ঢাকা; এসএস ট্রেডিং ছোট হাজি মার্কেট, টেকনাফ; সুপ্তি এন্টারপ্রাইজ, প্রো: আবু জাফর, ভোমরা, সাতক্ষীরা; মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ফরাশগঞ্জ রোড, ঢাকা; আল মদিনা স্টোর, লামাবাজার, টেকনাফ; বি কে ট্রেডার্স, চেলোপাড়া, বগুড়া; ধ্রুব ফারিয়া ট্রেডার্স, জয়পুরহাট রোড, দিনাজপুর ও মেসার্স সালাহ ট্রেডার্স, রাজাবাজার, বগুড়া।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুদ ছিল। কোনোভাবেই পেঁয়াজের সং’কট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অ-সাধু ব্যবসায়ীদের গুদামে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আটকা পড়ে থাকায় বাজার অ-স্থিতিশীল হয়ে পড়ে। অতি মুনাফার লোভে অনেক ব্যবসায়ী কৃত্রিম সং’কট সৃষ্টি করেন। আবার কয়েকজন আমদানিকারক নিজেরা বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। গুদামে পেঁয়াজ পচে গেলেও তারা বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেননি। ফলে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে ট্রাকে দিনভর পেঁয়াজ বিক্রি করেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই পেঁয়াজ আমদানির সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া আরও কিছু ব্যবসায়ী আড়তদার বা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে অতি মুনাফা হাতিয়ে নেন। এদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের অবস্থা হবে অনেকটা ‘অতি লোভে তাঁতী নষ্ট’ প্রবাদের মতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পেঁয়াজের কৃত্রিম সং’কটে অতি মুনাফা করতে গিয়ে স্থাবর-অ’স্থাবর সব সম্পদই ক্রোক হতে পারে তাদের। আবার অনেকেরই বাকি জীবন কাটবে দুদক ও বিভিন্ন আদালতের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পেঁয়াজের পর গুজব ছড়িয়ে যারা লবণ ও চালের বাজার অ’স্থির করতে চাইছেন তাদেরও নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও কৃত্রিম সং’কট তৈরির চেষ্টা করা হলে আমদানিকৃত সব পণ্য ক্রোকসহ লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/