• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১৭ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
সালাউদ্দিন কে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! জনতার রাজনীতির এক যোদ্ধার নাম সম্রাট সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীগঞ্জবাসীর সংবর্ধনা! ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল রামগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২১ শে আগস্ট ও বিএনপির ঐতিহাসিক বিচারহীনতার চরিত্র কোম্পানীগঞ্জসহ আরও ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চূড়ান্ত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী ঘটেছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মুক্তিকামী সকল মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ

ফেব্রুয়ারী ২০১৯- পেঁয়াজের ঝাঁজে কাঁদছে কৃষক, বিক্রি চার টাকায়!

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯

ভালো লাভ আসে বলে কয়েক বছর ধরেই পেঁয়াজ চাষ করে আসছে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা। এ রকমই একটি গ্রাম শিবপুর। গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বাস। অনেকেরই হয়েছে পাকা বাড়ি। পেঁয়াজের মৌসুমে সারা দিন কর্মচাঞ্চল্য থাকে ওই গ্রাম। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাক পেঁয়াজ বোঝাই করে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামে নানা ধরনের কর্মসংস্থান হয় এই পেঁয়াজ চাষকে ঘিরে। কিন্তু এ বছর পেঁয়াজ চাষ করে চাষিরা পড়েছে মহাবিপাকে। বিঘাপ্রতি ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে পেঁয়াজ চাষ করে তারা ঘরে তুলছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদন করতে চাষিদের খরচ হচ্ছে প্রায় সাত টাকা। সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চার টাকা কেজি দরে। কেজিপ্রতি তিন টাকা ক্ষতি গুনতে হচ্ছে চাষিদের। 

গতকাল সোমবার সকালে কথাগুলো বলছিলেন শিবপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আবুল কালাম। তিনি এ বছর পেঁয়াজ চাষ করেছেন ১০ বিঘা জমিতে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা করে। আর উৎপাদন হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ মণ। এক বিঘা জমির পেঁয়াজের বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা। ক্ষতি প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। আবুল কালাম জানান, ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমিতে পেঁয়াজ রেখে দিলেও তা ফেটে যাচ্ছে। ফেটে যাওয়া পেঁয়াজ বিক্রি হয় না। গত রবিবার ২২ মণ ফেটে যাওয়া পেঁয়াজ বস্তাসহ বিক্রি করেছেন মাত্র দুই হাজার ২০০ টাকায়। তিনি বলেন, পেঁয়াজ চাষ করেই এ গ্রামের উন্নতি হয়েছে। এবার সবাইকে ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। 

জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারও পেঁয়াজের দামের পার্থক্য অনেক বেশি দেখা যায়। তবে চাষিরা ভরা মৌসুমেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কারণে দাম পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে। আমদানিকারকরা বলছে, মাসখানেক আগেই তারা আমদানি বন্ধ করেছে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায়। মেহেরপুরে উৎপাদিত বড় সাইজের পেঁয়াজের চাহিদা কম বলে দাম কম পাচ্ছে চাষিরা, এমনটি জানাল তারা। 

আবুল কালামের সঙ্গে কথা বলার সময় একে একে গ্রামের আরো পেঁয়াজ চাষি জড়ো হলো। কথা হয় পেঁয়াজ চাষি ভাষান আলী, রফিকুল ইসলাম, বাবুল জোয়ার্দার, হায়াত আলী, আদম আলী, আশিক গাজীসহ জনাদশেক পেঁয়াজ চাষির সঙ্গে। তারা বলছিল, গত বছর যে পেঁয়াজ মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে বিক্রি করেছে, সেই পেঁয়াজ এ বছর বিক্রি করতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা করে। বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। 

পাশের গ্রাম গোপালপুরের আসলাম আলী জানান, তিনি এ বছর দেড় বিঘা জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত বীজ, সার, শ্রমিক খরচ সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দাম ভালো না পাওয়ায় জমিতে অতিরিক্ত সময় পেঁয়াজ রাখতে গিয়ে ফেটে নষ্ট হচ্ছে। ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি। আসলাম আলী বলেন, ‘নেশার ঘোরে কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের চাষ করছি। এ বছর ভেবেছিলাম করব না। অন্যদের দেখে থাকতে পরিনি। পেঁয়াজ লাগানো থেকে শুরু করে তোলা পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস লেগে যায়। এই ছয় মাসে অন্য ফসল আবাদ করলেও এত ক্ষতি হয় না। ’

মেহেরপুরের বড় বাজারের সবজি আড়ত পট্টির খেয়া সবজি ভাণ্ডারের মালিক আবুল খয়ের জানান, সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্চ্ছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় টাকায় এবং তাহেরপুরী জাতের ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। ভিন্ন চিত্র খুচরা বাজারগুলোতে। মেহেরপুর শহরে দুটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সুখসাগর জাতের বড় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা কেজি দরে এবং তাহেরপুরী জাতের ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকা কেজি দরে। মেহেরপুর হোটেলবাজারের সবজি ব্যবসায়ী সিতাব আলী জানান, তিনি মোটা পেঁয়াজ আট টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১২ টাকায়। ছোট পেঁয়াজ ১২ টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১৮ টাকায়। 

শিবপুর গ্রামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান জানান, চার থেকে সাড়ে চার টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে খরচ হয় কেজিপ্রতি তিন টাকা। ফলে গাড়ি ভাড়া করে পেঁয়াজ বিক্রি করতে গিয়ে তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। প্রতিদিন শিবপুর গ্রাম থেকেই ২৫ থেকে ২৬টি ট্রাক বোঝাই করে পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর ও আনন্দবাস গ্রামে সবচেয়ে বেশি হয় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ। মুজিবনগরের অন্যান্য গ্রামেও সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ হয় কমবেশি। তবে জেলার সদর ও গাংনী  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষটা বেশি হয়। জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। 

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা স্বপন কুমার খাঁ কালের কণ্ঠকে বলেন, চলতি বছরে জেলায় এক হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সুখসাগর ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/