• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০০ অপরাহ্ন

একজন আব্দুল কাদের মির্জার বেড়ে ওঠার গল্প!

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

স্বাধীনতা পরবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় একজন আবদুল কাদের মির্জার রাজনীতির যাত্রা। বলা যায়, গত তিন দশকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল সহযোগী সংগঠন গুলোকে শক্তিশালী করার জন্য রাজনীতিতে যিনি সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রেখেছেন তিনিই আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। 

৭৫ পরবর্তী ছাত্রলীগ যখন শূন্যের কোটায় তখন থেকে তিল তিল করে আজকের এ অবস্থানে এনেছেন তিনি। আশির দশকে বসুরহাট সরকারী মুজিব কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেসময় থেকেই রাজনৈতিক হিংসা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন। কয়েকবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরেও এসেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অসংখ্যবার মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। কিন্তু কখনো নীতিহীন হন নি, অন্যায়ের সাথে আপোস করেন নি কখনো।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর দলীয় সর্বসম্মতি ক্রমে আবদুল কাদের মির্জা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত হয়ে বসুরহাট পৌরসভা মেয়র নির্বাচিত হোন। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই টিএনটি অফিসের ভুতুড়ে বিল সহ নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি।

মেধা, ধৈর্য্য এবং অসীম সাহসের অধিকারী আবদুল কাদের মির্জা ২০০০ সালে যখন শিক্ষা ব্যাবস্থায় নকলের ছড়াছড়ি, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে তখন সাহসের সাথে নকল মুক্ত কোম্পানীগঞ্জ গড়ার ঘোষনা দেন এবং তখন তিনি সফলও হন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর আওয়ামীলীগ সরকারের পরাজয় হওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জ আবার মদ, গাঁজা, জুয়া,দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়। দুঃশাসনের সেই সময় আবদুল কাদের মির্জাকে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরন করা হয়। ২০০৬ সালে জামিনে এসে মৃত প্রায় আওয়ামীলীগকে আবার পুনরুজ্জীবিত করেন তিনি।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শাখায় দায়িত্ব দিয়ে দলকে চাঙ্গা করেন। এরপর  ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিপুল ভোটে জননেতা ওবায়দুল কাদেরকে বিজয়ী করার মাধ্যমে প্রমান হয় আবদুল কাদের মির্জা একজন দক্ষ সংগঠক। এরপর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কেম্পানীগঞ্জে শান্তিপুর্ণ সহ-অবস্থান ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন আবদুল কাদের মির্জা। যার কারনে জনসাধারনের কাছে তিনি অনেক প্রশংসিত হয়েছেন।

সমাজ, দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য যার রাজনীতি সেই আবদুল কাদের মির্জা নিজের কর্মগুণে তিনবার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার দৃশ্যপট এমনই পরিবর্তন করেছেন যার কারনে বসুরহাট পৌরবাসী আধুনিক ও প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা তৈরির নায়ক বলতে আবদুল কাদের মির্জাকেই জানে এবং বুঝে।

তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ভোগ বিলাস করতে কখনো কোম্পানীগঞ্জের বাহিরে যাননি। তার দীর্ঘ পথচলা কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হয়ে। তার সাথে রাজনীতি করা, চলাফেরা করা অনেকেই আজ দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাবসা বানিজ্য সহ বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন । তিনিও চাইলে তাদের মত করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে কোম্পানীগঞ্জের সাধারন মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একজন আবদুল কাদের মির্জার রয়েছে অনন্য অবদান। আমাদের দেশীয় বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষ্যে বেশ সরব থাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। থাকে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান বৈশাখ বরণ, একুশে মেলা, বিজয় মেলা স্বাধীনতা মেলা সহ নানান অনুষ্ঠান উদযাপনে রয়েছে গুরুত্বপুর্ন অবদান।

বর্তমান যুবসমাজ ধ্বংস ও মেধাহীনতার দিকে অগ্রসর, সামাজিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রধান ও অন্যতম কারন মাদক। সারা বাংলাদেশে ফাঁসির মতো বিধান রাখার পরও নিয়ন্ত্রন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ২০০৮ এর পর থেকে বর্তমান উপজেলায় চোর এবং ডাকাতির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে যেরকম জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করেছে আবদুল কাদের মির্জা তেমনি বর্তমান সময়ে উপজেলায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাড়ায়, মহল্লায় সভা সেমিনার করে মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রথমে সতর্ক করা হয়েছে। সতর্ক পরবর্তী প্রতিটি ইউনিয়নে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারে মাদক সেবনকারী যেই হোক তাকে গণধোলাই, গ্রেফতার, সামাজিক ভাবে বয়কট সহ নানান কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যা রীতিমত প্রশংসনীয়।

অতএব বলা যায়,একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ আবদুল কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আশীর্বাদ। সাধারন আপামর জনগন সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ মনে করে কোম্পানীগঞ্জে একজন আবদুল কাদের মির্জার বিকল্প নাই।

মোঃ নুরুল করিম জুয়েল ( সাবেক সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/