• বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন কোম্পানীগঞ্জে ঋণের দায়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা! ডুবাইয়ে ইস্কান্দার মির্জা শামীমকে সম্মাননা প্রদান বিকাশ প্রতারকের সঙ্গে প্রেম করে টাকা উদ্ধার করলেন কলেজছাত্রী কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত! চিফ হুইপের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা, গ্রেফতারকৃত জাহিদ ৩ দিনের রিমান্ডে মামুনুল ও ফয়জুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

মৃত স্ত্রীর উদ্দেশ্যে- নীচতলায় তোমাকে রেখে এসেছি। উপরতলা বলোতো কার?

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯
{"effects_tried":0,"photos_added":0,"origin":"gallery","total_effects_actions":0,"remix_data":["add_photo_directory"],"tools_used":{"tilt_shift":0,"resize":0,"adjust":0,"curves":0,"motion":0,"perspective":0,"clone":0,"crop":1,"enhance":0,"selection":0,"free_crop":0,"flip_rotate":0,"shape_crop":0,"stretch":0},"total_draw_actions":0,"total_editor_actions":{"border":0,"frame":0,"mask":0,"lensflare":0,"clipart":0,"text":0,"square_fit":0,"shape_mask":0,"callout":0},"source_sid":"405179E2-0A84-4FE8-8279-18260D16C00E_1570992924034","total_editor_time":40,"total_draw_time":0,"effects_applied":0,"uid":"405179E2-0A84-4FE8-8279-18260D16C00E_1570992923977","total_effects_time":0,"brushes_used":0,"height":828,"layers_used":0,"width":1242,"subsource":"done_button"}

লেখাটি বর্তমান দুদক পরিচালক Bansuri M Yousuf স্যারের ফেসবুক থেকে নেয়া।

কিছুদিন আগে রহস্য জনকভাবে আগুনে পুড়ে মারাযান স্ত্রী!

গতবছর এমন দিনে একরাত এয়ারপোর্টে ডিউটি শেষে বাসায় ফিরলাম। বউ দরজা খোলার পর কেমন যেন রহস্যময় হাসি হাসছে। প্রশ্ন করলাম, রহস্য কি?

খেতে বসে মিটমিট হেসে বলল, রহস্য তেমন কিছু না, তিন নাম্বার বাচ্চা আসতেছে। আমি হা হয়ে বললাম, এই বয়সে এসব ভিমরতি ছাড়ো। সংক্ষেপে কাহিনী বলে ফেলো।

বললো, গাজীপুর প্রবর্তন সিটিতে সাউথ ফেসিং একটা কর্ণার প্লট পছন্দ করে আসছি। ওটা কিনে ওখানে একটা ডুপ্লেক্স বাচ্চা-বাসা বানাবো।

শুনে আমি তড়িঘড়ি তার গায়ে হাত দিয়ে টেম্পারেচার দেখে বললাম, আজকে নিশ্চয় ওষুধ খেতে ভুলে গেছো, তাই হালকা আবোলতাবল বলছো। ওষুধ খেয়ে তাত্তারি ঘুমিয়ে পড়ো।

সে বেশকিছুক্ষণ চুপ থেকে মোলায়েম কন্ঠে বললো, তাবিন্দা পেটে থাকতে একবার তোমার কাছে লিচু খেতে চেয়েছিলাম, মনে আছে? তোমার টাকা ছিলো না বলে মাস্টার্সের সব বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে লিচু কিনে এনেছিলা, আনো নাই?

আমি বললাম, হুম আনছিলাম। তো, এখন কোন বই বিক্রি করে তোমারে প্লট কিনে ডুপ্লেক্স করে দেবো, শুনি?

নীচের দিকে তাকিয়ে বললো, সেদিন যেমন তোমার কাছে টাকা নেই জেনেও লিচু চেয়েছি, আজও টাকা নেই জেনেও ডুপ্লেক্স চাচ্ছি। মাঝখানে ২৪ বছরে কিছু চাইছি বলো?

আমি হেসে বললাম, চাইলেতো আর বঙ্গবাজার ঢাকা শহরে ব্যবসা করতে পারতো না। তো, এখন বলো, জামাকাপড়ের মতো কোন বঙ্গবাজারে কমদামে প্লট আর ডুপ্লেক্স পাওয়া যায়? অথবা আমি টাকা দেই, তুমি যেয়ে কিনে নিয়ে আসো, সবসময়ের মত।

উঠে যেতে যেতে একটু দরদী সুরে আলতো গলায় বললো, তুমি না তোমার কভার ফটোতে ঝুলায়ে রাখছো, I can? ওটা নামায়ে ফেলো।

ঐ রাতে খুব একটা ঘুম হয় নাই। তানিয়া কখনো আমার কাছে কিছু চায় না। আবার কিছু চাইছে অথচ আমি তা করিনি, এমনটা হয় নাই। ও অত্যন্ত সেনসেটিভ। খুব সামান্য থেকেই উলটাপালটা এটেম্পট নিয়ে বসে।

সকালে অফিসে গিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফোন করে সরকারী কর্মচারীদের জন্য ৫% সুদে হাউজলোনের খবর নিলাম। তারা বললো, বাড়ীর জন্য লোনের আবেদন করতে হলে বাড়ীর জায়গা আবশ্যিকভাবে দেখাতে হবে। কী মুসিবত! ভাবছিলাম, ৭৫ লাখ লোন নিয়ে কিছু দিয়ে জমি কিনবো, বাকীটা দিয়ে তানিয়ার ডুপ্লেক্স করবো! এখনতো দেখি দুইটাই মিস। আচ্ছা দাঁড়াও, বুদ্ধি বাইর করতেছি।

এয়ারপোর্ট সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারকে চায়ের দাওয়াত দিলাম। চা খেতে খেতে আলাপ হলো, তিনি তিনদিনের মধ্যে আমি ও অন্য দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিনজনের নামে কনজিউমার লোন দেবেন, যা দিয়ে আমি প্লট কিনতে পারি। এই প্লট দেখিয়ে সরকারি লোন নিয়ে তার থেকে ব্যাংকের কনজিউমার লোন পরিশোধ করবো। বাকী টাকা দিয়ে ডুপ্লেক্স!

চারদিনের মাথায় সকালে তানিয়াকে বললাম, চলো তোমার প্লট দেখে আসি। সে লাফিয়ে উঠে বললো, কিনে দেবা? আমি ভাব নিয়ে বললাম, গতকাল রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। আজ ইঞ্জিনিয়ারকেও যেতে বলছি। তুমি তারে দেখায়ে দেবা ডুপ্লেক্স প্ল্যান কি হবে! রাজউকে জমা দিতে হবে!

শুনে সে ঘরে ঘরে নাচানাচি শুরু করলো। বললো, তুমি যাও, আমি এখন ফোন করে সবাইরে জানাবো..ইয়াহু!

বললাম, আমিতো চিনিনা, যাবো কিভাবে? আমি কেবল তাদের উত্তরা অফিসে গিয়ে কইছি, আমার বউ যেই প্লট পছন্দ করছে, সেইটা দেন!

তারপর থেকে প্রতিদিন একবার করে সে প্রবর্তন সিটিতে যেতো, তার বাচ্চা দেখতে। সরকারি লোন পাবার সাথে সাথেই ডুপ্লেক্সের কাজ শুরু করছে সে। কি প্ল্যান, কোথায় কয়টা রুম হবে এসবের আমি কিছুই জানিনা।

ইঞ্জিনিয়ার এখন আমারে মাঝেমধ্যে যখন ফোন করে দিক নির্দেশনা চায়, আমি সরাসরি বলে দেই, জানি না।

আমি জানি তানিয়া, তুমি রাগ করবে। তুমি না থাকায় তোমার ডুপ্লেক্সের খবর আমি রাখি না। কতটুক কি কাজ হলো, তোমাকে আপডেট দেই না।

আরে না পাগলি, দুষ্টুমি করলাম তোমার সাথে। নিয়ম করে রোজ একবার যাই। একতলার কাজ শেষ। দুইতলার কাজ চলছে। নীচতলায় তোমাকে রেখে এসেছি। উপরতলা বলোতো কার?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/