• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শেখ হাসিনা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

জাতিসংঘে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শেখ হাসিনা

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘের ৭৪ তম সাধারণ অধিবেশন। এবারের জাতিসংঘে সাধারণ অধিবেশনে মধ্যমনি হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ূ পরিবর্তন, এসডিজি, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সব আলোর কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি। জাতিসংঘে সাধারণ অধিবেশনে তাকে ঘিরে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত এবং উপস্থাপিত হবে। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে এবার জাতিসংঘে অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে এবং এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে যে আন্তর্জাতিক মহলের না থাকা, বাংলাদেশকে যথাযথ সহযোগিতা না করার বিষয়টিও এবার জাতিসংঘে আলোচিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর রাতে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘে পৌঁছাবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্যোগে ক্লাইমেট সামিটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জলবায়ূ সহনশীল নীতি এবং কৌশলের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশের মডেল কিভাবে অন্যান্য দেশগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে যে জলবায়ূ তহবিল করেছে সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপন করবেন। এছাড়াও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘ নির্ধারণ করেছিল সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভালো করছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়েও এবার জাতিসংঘে আলোচনা হবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় হবে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সাইড ইভেন্টটি। এখানে সবার জন্য স্বাস্থ্য বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্য নিয়ে আলোচনা হবে। এই সাইড ইভেন্টে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ অটিজম বিষয়ে বিশ্বে একটি রোল মডেল রাষ্ট্র হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটিজম বিষয়ে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে অনুকরণীয় রাষ্ট্রের একটি। অটিজম বিষয়ে জাতিসংঘে সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বেই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সৃষ্টির পর থেকে অটিজম বিষয়ে সেবারই অটিজম বিষয়ে জাতিসংঘে প্রথম গৃহীত পদক্ষেপ।

শুধু অটিজম এবং কমিউনিটি হেলথ না, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যে ধৈর্য্য, সহনশীলতা এবং উদারতার পরিচয় দিয়েছে তা জাতিসংঘে আলোচিত হবে এবং সকল রাষ্ট্রই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গিকার করবে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, উদারতা এবং তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জাতিসংঘে আলোচিত হবে। এবারের জাতিসংঘে সাধারণতম অধিবেশনে শেখ হাসিনা একজন দূরদৃষ্টি বিচক্ষণ রাষ্ট্র নায়কই শুধু নন, একজন মানবিক সরকার প্রধান হিসেবে বিশ্বে প্রশংসার কেন্দ্রে থাকবেন। যেটা বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।  

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..