• মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

খুনী তারেক জিয়ার ফাঁসি হলে শরীরে বয়ে চলা ১৮০০ স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা জুড়াবে মাহবুবার

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

‘১৪টা বছর একটা একটা করে দিন গুনেছি এই রায়ের অপেক্ষায়। আমার সুন্দর জীবনটাকে যারা নরক বানিয়ে দিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখে যেন পৃথিবীর মানুষ ভয়ে আঁতকে ওঠে, সেটাই চাই। যারা পরিকল্পনাকারী তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সে সময়কার যে সকল কর্মকর্তা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদেরও কঠোর সাজা চাই।’ কথাগুলো বলছিলেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণকারীদের একজন- তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাভারের মাহবুবা পারভিন। উপজেলার জালেশ্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী আবুল মাসুদ ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি।

গ্রেনেডের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ দিন পর সংজ্ঞা ফিরেছিল মাহবুবার। তবে বেঁচে ফিরলেও আজও তার শরীরে রয়ে গেছে একটি দু’টি নয় ১৮শ স্প্লিন্টার। ১৪ বছর ধরে শরীরে বিঁধে থাকা স্প্লিন্টারগুলোর ব্যথাসহ নানা শারীরিক যন্ত্রণা তাকে যেন প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাতে ঘুম হয় না। কোনো কাজ করা দূরের কথা, সিঁড়ি বেয়ে উঠা-নামা করাও সম্ভব হয় না। আর এ যন্ত্রণা আমৃত্যু তাকে বয়ে বেড়াতে হবে- এমনটি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার ১৪ বছর পর দেশের ইতিহাসের নৃশংসতম ও আলোচিত সেই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় হতে চলেছে বুধবার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল কাঙ্ক্ষিত রায় পেতে যাচ্ছেন- এমন সংবাদে উচ্ছ্বসিত মাহবুবা পারভিন। অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা ও চোখে-মুখে থাকা বিষাদের ছাপ নিমেষেই সরে গিয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার বাসনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন তিনি।

চিৎকার করে তাই বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত তারেক রহমানকে দেশে এনে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে। হামলায় আহত হয়ে আমরা যেভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছি, তাকেও (তারেক) ধুঁকে ধুঁকে মারার মতো শাস্তি দিতে হবে। তাহলে মৃত্যুর আগে আমরাও আত্মতুষ্টি পাবো।’

২১ আগস্টের সেই শান্তি সমাবেশে অতর্কিত গ্রেনেড হামলায় হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে। দলের নেতাদের মানববর্ম এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের আত্মত্যাগে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান বাংলাদেশের ১৯তম রষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা কর্মী। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৩শ’ জন।

গ্রেনেড হামলা মামলার জীবিত ৪৯ আসামির মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু। এই আসামিদের সবার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযুক্ত ৫২ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩ জনের ফাঁসি হয়েছে অন্য মামলায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/