• রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১০:২২ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
চিফ হুইপের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা, গ্রেফতারকৃত জাহিদ ৩ দিনের রিমান্ডে মামুনুল ও ফয়জুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ রামগঞ্জে পৌর সোনাপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়সাল মালের নির্বাচনি মোটরবাইক শোডাউন জোনাকি পোকা হিংসে হয় দিবালোকের প্রতি!! রামগঞ্জে পৌর নির্বাচনে সোনাপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজুকে পুনরায় নির্বাচিত করার লক্ষে আলোচনা সভা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতা দেখালে জবাব দেবে ছাত্রলীগ নড়াইলের চৈতী রানী বিশ্বাস কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নোয়াখালীতে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল সংবর্ধিত! রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি অনুমোদন রামগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মনির হোসেন রানার মতবিনিময় সভা

বালিশ মাসুদের খোলা চিঠি!

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

৯১-৯৩ জন্ম নেওয়া প্রজন্মদের জন্য…..

রবীন্দ্রনাথ তার ‘ছুটি’ গল্পে তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলেদের মনস্তত্ত্ব মাত্র এক অনুচ্ছেদে বলে দিলেও এবং সুকান্ত আঠারো বছর বয়সীদের মানসিকতা এক কবিতায় ব্যাখ্যা করলেও চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সীদের মনস্তত্ত্বের দিকে কেউ নজর দেননি, অথচ এই বয়সটি তেরো-চৌদ্দ কিংবা আঠারো বছরের চেয়েও ভয়ঙ্কর। চব্বিশ-পঁচিশ বয়সকালটি মানবজীবনের ‘দ্বিতীয় বয়ঃসন্ধিক্ষণ’ এবং এই দ্বিতীয় বয়ঃসন্ধিক্ষণটি তেরো-চৌদ্দর বয়ঃসন্ধিক্ষণের চেয়ে অধিক বিপজ্জনক ও অসহনীয়।

তেরো বছর বয়সীর কাঁধে সংসারের দায় থাকে না। ছাত্রজীবন শেষ হয়ে যাওয়ায় পঁচিশ বছর বয়সীর কাঁধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসারের জোয়ালটি চড়ে বসে। অকস্মাৎ এই জোয়ালটি বইতে গিয়ে তার অপ্রস্তুত কাঁধটি অধিকাংশ সময়েই ভেঙে পড়ে কিংবা পড়ার উপক্রম হয়। ভেঙে-পড়া কাঁধ মেরামত করতে গিয়ে মরে যেতে থাকে এই বয়সের বহু স্বপ্নসাধ।

পঁচিশ বছর বয়সী ব্যক্তিটি সমাজ-সংসারের কাছে না-শিশু, না-প্রৌঢ়। কিশোরসুলভ উদ্দাম আচরণ কিংবা প্রৌঢ়োচিত পরিণত আচরণের কোনোটিই তার সাথে মানানসই নয়। পঁচিশের সম্প্রদায়টি না পারে শিশুদের ভিড়ে মিশে যেতে, না পারে প্রৌঢ়সমাজে ভিড়তে। সমবয়সীদের কেউ কেউ স্ব-স্ব কর্মে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় পঁচিশ বছরের অ-ব্যস্ত ব্যক্তিটি হয়ে নিতান্ত নিঃস্ব-নিঃসঙ্গ, জনতার মাঝে নির্জনতা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে ধরে অক্টোপাসের মতো।

পঁচিশে এসে উদ্দাম প্রেমের বয়সটিও বিগত হয়ে যায়, আবার নিঃসঙ্গতা জেঁকে ধরলে প্রেমে পড়তেও ইচ্ছে হয়। কিন্তু বালিকারা এই বয়সী তরুণদের প্রেমে পড়তে এক দিকে দ্বিধায় ভোগে, অন্য দিকে এই বয়সী তরুণটি প্রেমে কিশোরসুলভ উদ্দামতাও দেখাতে পারে না। পঁচিশের ছেলেটি টেলিফোনে কারো সাথে কুড়ি মিনিট কথা বলতে গেলে দশ মিনিট বাদে তার তন্দ্রা আসে, বারো মিনিট বাদে তার মাথা ঘোরে, পনেরোতম মিনিটে সে ঘুমিয়েই পড়ে! সঙ্কোচ-বিভ্রান্তি-দোটানা-দ্বিধাই যেন এ বয়সের বীভৎস ভূষণ!

অর্থসংকট পঁচিশের একটি প্রকট আপদ। এই বয়সে ডিগ্রি থাকে, টাকা থাকে না; সময় থাকে, সাধ থাকে, সাধপূরণের সাধ্য থাকে না। বাড়ি থেকে অর্থসরবরাহ হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়। চাকরিপ্রাপ্তির পূর্ববর্তী সময়টা সমাজ তাকে মঞ্জুর করতে চায় না। ডিগ্রিপ্রাপ্তি ও চাকরিপ্রাপ্তির মাঝামাঝি সময়টা অর্থসংকট, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর পারিবারিক রিমান্ডেই কেটে যায় তার। মাঝবয়সে কিংবা শেষবয়সে যখন অর্থের আগমন ঘটে, তখন তার শখপূরণের ইচ্ছে বা সময়ের কোনোটিই আর অবশিষ্ট থাকে না। বয়সের শাখের করাতে এভাবেই কেটে কুঁচিকুঁচি হয় পঁচিশের শখেরা।

আঠারো-উনিশ রক্তগরুমে বয়স। এ বয়সের সবাই কম-বেশি বিপ্লবী হয়ে থাকে, চোখে পরা থাকে রঙিন রোদচশমা। পঁচিশে এসে টিনএজ বিপ্লবীটির চোখ থেকে রঙিন চশমাটি আচমকা খসে পড়ে, বিপ্লবেরা মাঠে মারা পড়ে; এককালের আপসহীন বিপ্লবীটি ক্রমশ বেছে নিতে থাকে আপস-রফা আর রক্ষণশীলতার পথ, তার বিপ্লব হারিয়ে যেতে থাকে কালের কৃষ্ণগহ্বরে। স্বজনকে সদ্য সমাধিস্থ করে ঘরে-ফেরা স্বজনের মনের অবস্থা যেমনটি দাঁড়ায়, কৈশোরের বিপ্লবকে কবর দিয়ে-আসা পঁচিশের তরুণটির মনের অবস্থাও তেমনই হয়।

সমাজের প্রতি আঠারো-কুড়ি বছরের একজন কবির কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। পাছে লোকে কী বলল, এতে তার কিছু যায়-আসে না; যেকোনো কিছুকে থোড়াই কেয়ার করার অসীম-অপরিসীম ক্ষমতা থাকে তার। কিন্তু পঁচিশে এসে সমাজের প্রতি সেই কবির এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। পঁচিশে একজন কবি যাচ্ছেতাই লিখতে পারে না। লেখার সময়ে তাকে মাথায় রাখতে হয় পরিবারের কথা, সমাজের কথা, সমালোচক-নিন্দুকদের কথা। সর্বোপরি মানহানি ও জানহানির শঙ্কাও তাকে তাড়া করে ফেরে। ফলে আঠারো-কুড়ির ডাকসাইটে কবিটি পঁচিশে এসে হয়ে পড়ে নখদন্তহীন-নির্জীব-নির্বীর্য। নিজের অতীতের উদ্দাম লেখনীশক্তির কথা ভেবে পঁচিশের কবিটি ভেতরে-ভেতরে কুঁকড়ে যেতে থাকে গতায়ু বৃদ্ধের মতো, অবসরপ্রাপ্ত নিরস্ত্র সৈনিকের মতো।

পঁচিশে এসে আচমকা রাজনীতিতেও ঢোকা যায় না। ছাত্ররাজনীতিতে উনিশ-কুড়িদেরই জয়জয়কার। সতেজ উনিশ-কুড়িদের দাপটে ছাত্ররাজনীতির ময়দানে নিস্তেজ পঁচিশের দাঁড়ানোই দুষ্কর। ফলে তার রাজনৈতিক অভিলাষও অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মতো অপূর্ণই থেকে যায়।

পঁচিশে ব্যক্তিত্ববোধ থাকে অতি টনটনে। বন্ধু-পরিজনের বিন্দুমাত্র অবমাননাকর বক্তব্য পঁচিশের সহ্য হয় না, আবার পরিণতির কথা ভেবে ঐ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখানোও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে ওঠে না। পঁচিশের একেকজন ব্যক্তি যেন একেকটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্বে কিঞ্চিৎ আঘাত লাগলেই এই বয়স বিদ্রোহ করে বসে। ফলে পঁচিশে কাটাতে হয় একটি অভিনয়মুখর অবদমিত জীবন। পঁচিশেই মানবজীবনের যাবজ্জীবন অভিনয়ের অভিষেক ঘটে।
[Collected]

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/