• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
সালাউদ্দিন কে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! জনতার রাজনীতির এক যোদ্ধার নাম সম্রাট সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীগঞ্জবাসীর সংবর্ধনা! ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল রামগঞ্জে ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২১ শে আগস্ট ও বিএনপির ঐতিহাসিক বিচারহীনতার চরিত্র কোম্পানীগঞ্জসহ আরও ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চূড়ান্ত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী ঘটেছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু বিশ্বের মুক্তিকামী সকল মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ

নিয়তি ও মানব জীবনঃ জীবন আসলে এক বিস্ময়কর দৃশ্যকাব্য।

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হাসপাতালে জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করতেছেন। সরকার অবশ্য দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি পায়েশ খাচ্ছেন।

কিন্তু সরকারের সে দাবি নাকচ করে দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নিশ্চিত করলেন, তিনি আসলে জাউ খাচ্ছেন। কারণ তাঁর মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তাই তিনি স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়া করতে পারতেছেন না।

স্বাভাবিক খাওয়া খেতে না পারলে রোগীদের জন্যে অস্বাভাবিক খাওয়া আছে, যা রোগীর পরিবার পরিজন তৈরি করে খাইয়ে থাকেন। কিন্তু খালেদা জিয়া পরিজন পরিবেষ্টিত নেই এখন। তাঁর সন্তান সন্ততিরা কেউ মরে গেছেন, কেউ ভেগে গেছেন দেশ ছেড়ে।

খালেদা জিয়া পায়েশ খেলে আমাদের হিংসা করার কিছু নেই। তিনি জাউ খেলেও আমাদের উৎফুল্ল হওয়ার কিছু নেই। আমরা আমজনতা। আমাদের বিবেচনায়, কারাঅন্তরীণ খালেদা জিয়ার কাছে পায়েশ যা, জাউও তা।

তবে কথা থাকে। আশির দশকে বাংলাদেশে বড় অভাব লেগে থাকতো। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অন্য প্রাকৃতিক কারণে মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়তো। তখন সরকার ঐসব মানুষদের জন্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম ইত্যাদি বানাতো।

গুচ্ছগ্রামগুলোতে যারা থাকতো তারা আধপেটা, সিকিপেটা খেয়ে জীবন ধারণ করতো। বেশিরভাগ উদ্বাস্তুর খাওন ছিলো এই জাউ।

জাউয়ের কথা একারণে বললাম যে, এটি একটি অমানবিক খাওয়া। মানুষের পক্ষে এই খাওয়া রদ করা কষ্টকর। গুচ্ছগ্রামগুলোর মানুষেরা মনে করতো; তারা অভিশপ্ত, তাই তাদের উপর খোদা খাদ্য হিসেবে জাউ চাপিয়ে দিয়েছেন।

সেই জাউ খাচ্ছেন খালেদা জিয়া ! চিন্তা করেন ! বাংলাদেশে আড়াইবারের প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী নামে যাঁকে তাঁর দলীয় লোকজন বলে থাকেন, যাঁর স্বামী ছিলেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান, মুখ্য সামরিক আইন প্রশাসক এবং সর্বশেষ ভীষণ তেজি এক স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট!

মানুষ আহাজারি করে বলে, শাসকরা এত অন্যায় করে, খোদা তাদের বিচার করেনা কেন ! অনেকে বলে থাকেন, পরকালে বিচার নিশ্চয় হবে। আমি বলি না; পরকালে নয়, মাটির উপরেই মানুষের বিচার হয়। শুধু একটু অপেক্ষা করতে হয় আর হিসাব মিলিয়ে দেখতে হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আধ্যাত্মিকতা শেখার অনেক সুযোগ আছে। এই মুহূর্তে তার জ্বলন্ত নতিজা হলো, খালেদা জিয়া এবং হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ।

বয়সের কারণে সবাইকে একদিন মরতে হয়। ভালোমানুষ মন্দমানুষ সবাই মরবেন। কিন্তু সম্মানের মৃত্যু এবং অপমানের মৃত্যু বলে একটি ব্যাপার আছে।

আমরা যেন এই সব ‘জাউ’ দেখে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকি। কারণ আজকের পায়েশ ভবিষ্যতের জাউ। আমরা জানি ক্ষমতা থেকে কারাগারের দূরত্ব বড় কম, যেমন কম ভালোবাসা থেকে ঘৃণার দূরত্ব।

লেখক: মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/