• শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:০০ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন কোম্পানীগঞ্জে ঋণের দায়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা! ডুবাইয়ে ইস্কান্দার মির্জা শামীমকে সম্মাননা প্রদান বিকাশ প্রতারকের সঙ্গে প্রেম করে টাকা উদ্ধার করলেন কলেজছাত্রী

স্বপ্ন যখন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হওয়ার!

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে স্বল্প পুুঁজিতেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন নারীরা। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) তথ্য বলেছে, এখন দেশে প্রায় ২০ হাজার ফেসবুক পেজে কেনাকাটা চলছে। এর মধ্যে ১২ হাজার পেজ চালাচ্ছেন নারীরা। নারী উদ্যোক্তাদের কেউ পোশাক, কেউ গয়না,কেউ হাতে তৈরি জিনিস, কেউ তৈরি খাবারসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন। অনেকে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার কাজ করছেন। কেউ শৌখিন পণ্যকে নিয়ে ব্যবসায় নেমেছেন। এই নারীরা কিন্তু শিক্ষিত আবার মেধাবী ও! এমনই একজন অনলাইন উদ্যোক্তা হচ্ছেন সাজেদা আক্তার আমানী।

সাজেদা আক্তার আমানী ডিজিটাল বাংলাদেশ ডট কম কে জানান- মেয়েদের নিজের একটা আলাদা পরিচয় থাকা খুব প্রয়োজন। নিজের পায়ে দাঁড়ানো প্রয়োজন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন। আমি নিজেও একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাই, অবসর সময়ে বসে না থেকে কিছু করতে চাই। সেজন্য এই অনলাইন বিজনেসে আসা। নিজ জেলা এমনকি সারাদেশের মধ্যে যেন নিজের একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং তৈরী করতে পারি সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

ব্যক্তি জীবনে পাঁচ জনের পরিবার তাদের। বাবা মোঃ সাহাব উদ্দিন এবং মা শাহীন আক্তার এর একমাত্র কন্যা সন্তান তিনি। তারা ২ভাই এবং ১বোন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামেই থাকেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনাসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত তুখোড় ছিলেন তিনি।

৫ম শ্রেণীতে ফার্স্ট ডিভিশন সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। প্রতিটি শ্রেনীতেই তিনি প্রথম স্থান অর্জন করতেন সবসময়। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ম শ্রেনীতে “গোল্ডেন এ +” এবং এস এস সি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে “জিপিএ-৫” পেয়েছিলেন, সিরাজপুর পিএল একাডেমী হাইস্কুল থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কুলের প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে গান আবৃত্তি ও বক্তৃতায় প্রথম হতেন তিনি।

এইচএসসি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে “জিপিএ-৪.১৭” পেয়েছিলেন জৈতুন নাহার কাদের মহিলা কলেজ থেকে। আর বর্তমানে তিনি ফেনী সরকারি কলেজে বাংলা নিয়ে অনার্স করছেন, ৩য় বর্ষে অধ্যয়ন রত। অনার্স পর্যায়ে এসে তার বাংলা নিয়ে পড়ার একমাত্র কারণ হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তার তীব্র অনুরাগ।
উল্লেখ্য, তিনি ২০১৬ এবং ২০১৭ টানা ২বার কোম্পানিগন্জ উপজেলা থেকে কলেজ পর্যায়ে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর” পুরস্কার পান।
এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের “সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০১৬ তে” উপজেলা পর্যায়ে “বছরের সেরা মেধাবী” হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতা-২০১৬ এবং ১৭তে” কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতা তে কলেজ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গিয়েও প্রথম হন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ও অংশ নেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি, গত ২-৩বছর মডার্ণ হারবাল গ্রুপে বিজনেসের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। বর্তমানে এই কোম্পানিতে জিএস পদে আছেন । সে তার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন ভিত্তিক নিজের উদ্যোক্তা জীবন শুরু করেছে। “Sajeda’s fashion corner” নামে তার একটি অনলাইনে গ্রুপ এবং পেইজ রয়েছে। করোনাকালীন ঘরে বসেই অনলাইনে বিজনেস করে ভালোই সাড়া পাচ্ছেন তিনি। কিছু সমস্যা থাকলেও আয় ভালোই হচ্ছে।

তিনি জানান, অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করা খুব চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ। এই প্রফেশন এতটা সহজ নয়। অনলাইনের বিজনেসের প্রথম শর্তই হলো ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হওয়া, পণ্যের মান, সঠিক মূল্য উপস্থাপন করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়া। সব ক্ষেত্রে আমি আমার ক্রেতাদের পছন্দকেই গুরুত্ব দিই। অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তো মোকাবেলা করতে হয়। যেমন অনেক ক্রেতা অর্ডার করে আর ফোন ধরে না। অর্ডার ডেলিভারির পর ক্যান্সেল করে। অনেকে আবার ফেইক আইডি দিয়ে অর্ডার করে সেটাতে প্রডাক্ট রিসিভ করে না। তবুও বাধা বিপত্তি তো আসবে, ঝুঁকি নেয়াই একজন ব্যবসায়ীর বৈশিষ্ট্য, থেমে থাকা যাবে না সফলতা আসবেই।

এছাড়াও তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ ডট কম কে আরো জানান,
নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করে নিজের সুপ্ত মেধাকে কাজে লাগিয়েছি। যখন ক্রেতারা আমার পোশাক হাতে পেয়ে খুশি হয়, প্রশংসা করে তখন অনুপ্রেরণা পাই। যদিও আরো অনেকদূর যেতে হবে। স্বপ্ন দেখি একদিন দেশের নামকরা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। জীবনে বাঁধাবিপত্তি তো থাকবেই। বাঁধা জয় করেই তো সফলতা পাবো, তখন পথের বাঁধাগুলোকে দূর অতীত মনে হবে। নিজের ব্যবসাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেন সবাই দেখে বলে মেয়েরাও কোনো ছেলে থেকে কম নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/