• সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

কিছু হলেই “ধর্ম চলে গেছে, ধর্ম চলে গেছে”! ধর্ম এত ঠুনকো কিছু নয়

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ করলেন গোলাম কিবরিয়া আযাহারী


লালমনিরহাটে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে একজনকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা মাওলানা সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আযাহারী। আজ শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুকে সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আযাহারী লিখেন ‘কিছু হলেই “ধর্ম চলে গেছে, ধর্ম চলে গেছে”! ধর্ম এত জলদি যায় না। ধর্ম এত ঠুনকো কিছু নয়। মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।’

ডিজিটাল বাংলাদেশ পাঠকদের জন্য মাওলানা সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আযাহারী’র স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:

কী ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেল লালমনিরহাটে। কুরআন মাজিদের কথিত অবমাননার নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশে আগুন দেয়া হল। কী ভয়াবহ, কী ভয়ংকর! সেই ঘটনা আবার পুরোটাই ভিডিও করে সোশাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়া হল।

লালমনিরহাটের গতকালের ঘটনাটির ক্ষেত্রে, আমি কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারি না যে, বাংলাদেশের কোন একটা মুসল্লিতে ঠাসা মসজিদে প্রবেশ করে কোন মানুষ বলবে যে, এখানে জংগী রয়েছে। আর সে কুরআন মাজিদের পাতাও ছেড়া শুরু করবে। গণধোলাইয়ের কোন ভয় নাই তার? যদি তাই করে থাকে সে, তবে হয়ত সেই লোক পাগল ছিল। আর পাগলের উপর শরিয়ত ও আইনের কোন শাস্তি কার্যকর নয়। আর না হয় এই অভিযোগটাই সম্পূর্ণ মিথ্যা। জাস্ট এখন অপরাধীরা তাদের অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগকে জাগ্রত করার জন্য বানিয়ে বানিয়ে বলছে এসব। এবং দ্বিতীয়টার সম্ভাবনাই সবচাইতে বেশি। আমাদের বিভ্রান্ত তৌহিদী জনতাকে বিভ্রান্ত করেছে আবারো কেউ। আর জংগী আছে বলে সন্দেহ তো নিরাপত্তা বাহিনীর লোক করবে। যদি সে নিরাপত্তা বাহিনীর লোক হত তবে তারা দুজন লোক ছিল সেখানে, পিস্তল বন্দুক অবশ্যই তাদের সাথে থাকত। সাধারণ মানুষ কি সাহস করত তখন তাদেরকে মারতে? তাদের পিস্তল বন্দুক কোথায়?

আমি যতটুকু জানলাম, একজনের পা লেগেছিল মসজিদের ভেতরে থাকা শেলফে, যেই শেলফে কুরআন মাজিদ ছিল। এটা থেকে তর্ক বিতর্ক করে পরে কুরআন অবমাননাকারী সাজিয়ে দেয়া হয় ঐ ব্যক্তিকে। কী ভয়ংকর বিষয়! মানুষটির লাশও পুড়িয়ে দেয়া হয়। কী ভয়াবহ বিষয়। এতটা অমানবিকতা!

কোন ধরনের কোন যাচাই বাছাই ছাড়াই সাধারণ তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। আর আল্লাহ পাক বলছেন,
‎يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (আল কুরআন, ৪৯ঃ০৬)

দায়ী সকলকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনে ন্যায়বিচারের নজির স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের প্রতি। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ভয়ানক জিনিস।

আর আমাদের অল্প কিছু বিভ্রান্ত, অশিক্ষিত, অন্ধ আবেগী, সস্তা জনপ্রিয়তা খুঁজা মৌলভি বক্তাদের জবানকে সামলানোর দাবি জানাচ্ছি। মানুষের আবেগ নিয়ে খেলবেন না আর। নিজেরা তো আইন হাতে তুলে নেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে ভয়ানক সব ঘটনা ঘটাচ্ছেন আপনারা। সংযত হোন। আল্লাহ পাকের সামনে দাঁড়াতে হবে একদিন। সাবধান।

কিছু হলেই “ধর্ম চলে গেছে, ধর্ম চলে গেছে”! ধর্ম এত জলদি যায় না। ধর্ম এত ঠুনকো কিছু নয়। মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। দয়া করে আইন হাতে তুলে নেবেন না। যদি এই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকে তবে অন্য কোন দারুল ইসলামে হিজরত করুন, এই দেশকে দারুল ইসলাম বা দারুল আমান মনে না করলে। কোন দেশে থাকতে হলে সেই দেশের আইন মানতে হয়।
— with Baharul Islam Molla and 3 others.

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/