• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
ভুলুয়া নদীর তীরে ছাত্রলীগের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী পালন। সুবর্ণচরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা নিউইয়র্কে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা নুরুল করিম জুয়েলের সাথে নোয়াখালী ছাত্রলীগের মতবিনিময় মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদীর শহর রক্ষা বাঁধের ভাঙন, আতঙ্কে শহরবাসী সবুজ বাংলাদেশ সুবর্ণচর উপজেলা শাখার ঈদ পূর্ণমিলনী ও বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি উদ্বোধন। বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৫ হাজার ৪শ’ মানুষের মৃত্যু সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রলীগের জন্য এমপি পুত্রের উপহার। ৫০টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিকাশ ম্যানেজারসহ আটক ২ নোয়াখালীতে কোরবানির পশুর হাটে সচেতনামূলক ক্যাম্পেইন

লক্ষ্মীপুরে পরিবহন চাঁদাবাজি থামছেই না! উপজেলায় মাসে অর্ধ-কোটি টাকা উত্তোলন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে-রায়পুরে পরিবহন খাতে প্রতি মাসে অর্ধ-কোটি টাকা চাঁদা (জিপি) উত্তোলন করা হচ্ছে। বাস, ট্রাক, টেম্পো, মাইক্রো বাস, সিএনজি ও অটোরিকশা ও ট্রলির ৫টি স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ তাদের সংগঠনের একদল নেতার হাতে জিম্মি এসব স্ট্যান্ড। চাঁদার ভাগ যায় বড় নেতা, পাতিনেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ ধরপাকর হলেও আবারও শুরু হয় জিপির নামে চাঁদা উত্তোলন। পরিবহন মালিক ও চালকদের অভিযোগ, প্রতিটি বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির নামে বিভিন্ন সংগঠন।
সিএনজি ও বাস মালিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি স্ট্যান্ডকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ নামধারীরা স্বঘোষিত মালিক ও শ্রমিক নেতা সেজে কমিটি গঠন করে রেখেছেন। প্রতিটি স্ট্যান্ডে রয়েছে তাদের লাইনম্যান। এরা নির্ধারিত হারে বাস,ট্রাক, মাইক্রো, ট্রলি, সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করে থাকেন। চাঁদা পরিশোধ না করে কারও পক্ষে স্ট্যান্ড ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। চাঁদা পরিশোধ করা না হলে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ঈদের দুদিন পর মজুচৌধুরী ঘাট এলাকায় ৪টি মাইক্রো গাড়ি আটক করে মালিকের কাছ থেকে পুলিশের নামে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।।
রায়পুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হাজী ইসমাইল খোকনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বললে বৈধ ইজারার মাধ্যমে তিন স্ট্যান্ড থেকে টাকা তোলা হচ্ছে বলে জানান। এ টাকা পৌরসভার উন্নয়নে খরচ করা হয়। চলতি জুন-২০ইং মাসে নতুন করে ইজারার আহব্বানের কথা ছিলো। কিন্তু করোনার কারনে বন্ধ রয়েছে।
রায়পুর পরিবহন সেক্টরের খোঁজ-খবর রাখেন এমন লোকজন জানান, বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। পরিবহন চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় খাত হিসেবে দেখা দিয়েছে সিএনজি অটোরিকশা। রায়পুর থেকে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চৌমুহনী সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ৮২ টি আনন্দ পরিবহন প্রতিদিন জনপ্রতি গাড়ী রায়পুরে ১১৫ টাকাসহ ৬৩৫ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। রায়পুর থেকে চট্রগ্রাম সড়কে ৪৭টি ও ঢাকা সড়কে ৪০ জোনাকি পরিবহন এবং ৫০টি শাহী পরিবহন জনপ্রতি গাড়ী ২০ টাকা ও ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। রায়পুর থেকে ঢাকা সড়কে চলাচলকারি ৩০টি ঢাকা এক্সপ্রেস বাস থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। রায়পুর থেকে কুমিল্লা সড়কে ১০টি বোগদাদ পরিবহনকে জনপ্রতি ৯০ টাকা করে দিতে হয়। প্রায় ১২০টি মাইক্রো গাড়ীকে জনপ্রতি চাঁদপুরে ৮০০ ও লক্ষ্মীপুরে ট্রাফিক বিভাগকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। রায়পুর ট্রাক ষ্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারি প্রায় ২ শতাধিক পন্যবাহী ট্রাককে জনপ্রতি ৭০/১২০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। ছোট-বড় পন্যবাহী থেকে পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত ১০/১৫ টাকা হারে নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও ইজারাদার ওহীদ উল্লাহ তার ৬ জন লাইনম্যানের মাধ্যমে ৪০,৭০ ও ১২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন।
লক্ষ্মীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইন্জিন) অনুজ চন্দ বলেন, জেলায় সিএনজি আটোরিকশার লাইসেন্স আছে ৭ হাজার ২’শটি। হাজার-হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে থাকে স্ট্যান্ড কমিটিকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে। গত মে-২০ইং মাসে অভিযান হয়নি। তাছাড়া প্রতি মাসেই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনা হয়ে থাকে। কোন চালক বা লোককে লাইসেন্স পেতে হয়রানি করা হয় না বলে দাবি ।
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ডে কথা হয় সিএনজি চালক রহমত ও নূর ইসলামের সঙ্গে। তারা দুঃখের সঙ্গে বলেন, রুটে চলাচল করতে তাদের ভর্তি হিসেবে তিন-চার হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। গাড়ি চালাতে দিতে হয় প্রতিদিন ৩০ টাকা। চাঁদপুর রুটের তারেক হোসেন ও মনোয়ার জানান, তারা লাইসেন্সের জন্য দরখাস্ত করে রেখেছেন। কিন্তু বিআরটিএ লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে। এখন প্রতি মাসে ৩০০ টাকা পরিশোধ করে স্ট্যান্ড থেকে টোকেন নিতে হয়। রাস্তায় পুলিশকে স্ট্যান্ডের টোকেন দেখিয়ে চলাচল করতে হয়। টোকেন দেখাতে না পারলে গাড়ি আটক হয়ে যায়। মামলা করা হয়।
রায়পুর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, প্রতিদিন শহরের থানার কর্নারে, বাসটার্মিনাল, সাবেক শহীদ মিনারের সামনে,মধ্যবাজারের মোড়ে এসব বাস, সিএনজি,অটো, ট্রাক ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। তবে করোনায় কয়েকটি স্পটে ১০, ৭০, ১২০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়াও ১০টি ইউনিয়নের গুরুত্বপুর্ণ স্থানে এসব ষ্টান্ড রয়েছে।
পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেলার অন্যতম ব্যাস্ত রায়পুর-চাঁদপুর-কুমিল্লা, নোয়াখালি, রামগন্জ সড়কের রায়পুর বাসস্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ, মেয়র ইসমাইল খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহব্বায়ক তানভির হায়দার চৌধুরী রিংকু, সাবেক যুবলীগ সম্পাদক শফিক খান, আ’লীগ কর্মী মোঃ ডালিম, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম লিটন, আবুল কাশেম দেওয়ান, মোঃ বাবুল প্রমুখ। প্রায় ৫ বছর আগে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকের নামে ৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হতো। গ্রুপিংয়ের কারনে তা বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ দেশে করোনার আগে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে করোনায় সময়ে তা বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা না হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না। বরং পরবর্তী সরকারের আমলে আরও বৃদ্ধি পাবে।
সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর ও রামগন্জ সার্কেল) স্পীনা রানী প্রামানিক জানান, গত ৮দিন আগে সড়কে পরিবহন থেকে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে পুলিশ সুপার স্যার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন। পরিবহন মালিকরা অভিযোগ করলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, স্ট্যান্ডে কোন চাঁদাবাজি হয় না। রায়পুর পৌরসভা থেকে গত জুন মাসে ২২ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ১০ ও ২০ টাকা করে জিপি উত্তোলন করছি। রায়পুর-হায়দরগন্জ ও আলোনিয়া সড়ক নিয়ন্ত্রনকারি সাবেক যুবলীগ নেতা শফিক খান বলেন, ৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ১০ টাকা করে উত্তোলন করছি। রায়পুর-চাঁদপুর- রামগন্জ-মীরগন্জ ও গাজিনগর সড়ক নিয়ন্ত্রকারি মোঃ ডালিম একই বক্তব্য দিয়েছেন।
রায়পুর আনন্দ পরিবহনের মালিকদের সমন্বয়কারী শিপন ভুঁইয়া মোবাইলে বলেন, ৮২টির মধ্যে ৭০ পরিবহন চাঁদপুর-রায়পুর-লক্ষ্মীপুর ও চৌমহনী সড়কে চলাচল করছে। প্রায় ৮ মাস আগে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ অভিযানে কয়েকজন লাইনম্যানকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছে। অনিয়মতান্ত্রীকভাবে দায়িত্ব নেয়া শ্রমিকলীগ নেতা ভুট্রু ও খোকন তাদের দ্বায়ীত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এ চাঁদার টাকা রায়পুর পৌরসভা, মসজিদের চাঁদা, শ্রমিকদের মেয়েদের বিয়ে ও সংগঠনের নামে মামলার খরচে ব্যায় করা হচ্ছে। তাছাড়া এ পরিবহনের সকল কিছুই লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের ও আ’লীগ নেতা শাহজাহান হাজী পরিচালনা করছেন।
লক্ষ্মীপুর পরিবহন শ্রমিক নেতা শাহজাহান হাজি মোবাইল ফোনে জানান,মহামারি করোনার সময় প্রায় পরিবহন বন্ধ রয়েছে। আনন্দ পরিবহন থেকে যে জিপির টাকা তোলা হয়, তা বিভিন্ন খাতেই ব্যায় হয়। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার সুযোগ নাই। সংগঠনের সভাপতি সদর পৌরসভার মেয়র পরিবহনের কোন টাকারই খোঁজ খবর নেন না।।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/