• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :

বিক্রির অর্থ বিদেশে নেয়ার বিধি শিথিল

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

দেশে পরিচালিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে নেয়ার বিধি আংশিক শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শর্তসাপেক্ষে ১-১০ কোটি টাকার সমপরিমাণ যে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে নেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিধিমালা, গ্রাহকের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন কর পরিশোধ করতে হবে। তবে ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশে নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জানানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সার্কুলারে। সার্কুলারে বলা হয়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বেসরকারি বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে প্রবাসীদের যেসব বিনিয়োগ রয়েছে, সেগুলোর শেয়ার বিক্রি করে সেসব অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশে স্থানান্তর করা যাবে। তবে ব্যাংকগুলোকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, গত ৩ বছরের মধ্যে বা শেয়ার বিক্রির আগের বছরের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে তা নিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশে প্রবাসী ও বিদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এই নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ করার পর সেগুলো আবার ফিরিয়ে নেয়ার নীতিমালা সহজ হলে বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থার সঞ্চার হবে। ফলে তারা যেমন দ্রুত পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারবে, তেমনি দ্রুত তুলে নিতে পারবে। বিভিন্ন দেশের বিদেশি বিনিয়োগের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা আনা-নেয়ার বিধান সহজ হলে বিনিয়োগ বাড়ে। সে লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব বিধি শিথিল করেছে। গত তিন মাসে এসব খাতে আরও বেশ কিছু বিধিবিধান শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বাজারদরে শেয়ার বিক্রি করে সেসব অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগে না। কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বেসরকারি (১ থেকে ৭ জন উদ্যোক্তা) ও পাবলিক লিমিটেড (৭ থেকে ৫০ জন উদ্যোক্তা) কোম্পানিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিনিয়োগ থাকলে সেগুলোর শেয়ার বিক্রি করে যে কোনো পরিমাণ অর্থ বিদেশে নিতে আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগত। সার্কুলারে আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করা অর্থ ব্যাংকের যে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের লাইসেন্সধারী শাখার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হবে, ওই শাখাকে কোম্পানির সম্পদ, শেয়ার বিক্রির অর্থ, কর পরিশোধ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিধিবিধানগুলোর পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানির নিট সম্পদের মূল্যায়ন করতে হবে একটি নিরীক্ষক কোম্পানির মাধ্যমে। তাদের মূল্যায়নের পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা। প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও পরামর্শ করতে পারবে। এসব লেনদেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রায় যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য লেনদেন সম্পন্ন করার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/