• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:১৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে গতি নেই

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

গতি না থাকলেও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে বাড়ছে ব্যয় ও মেয়াদ। গত বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়েছে; কিন্তু এখনও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৪০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ‘বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে এ চিত্র বিরাজ করছে। এ অবস্থায় নতুন করে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং মেয়াদ বাড়ছে আড়াই বছর।

এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে আজ। সেই সঙ্গে আরও আটটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত থাকবেন সেখানে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে থাকবেন একনেকের বাকি সদস্যরা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির শুরু থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ফলে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে অর্ধেক। প্রকল্পের অগ্রগতি কম হওয়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতাভুক্ত কিছু স্কিম প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। তাই ঠিকাদার নির্বাচনে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হয়; কিন্তু সময়মতো ঠিকাদার নির্বাচন সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি কম হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ একনেকের জন্য তৈরি প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলেন, প্রকল্পটির আওতায় ঝূর্ণিঝড়ের সময় নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টারে যাতায়াতের জন্য সংযোগ সড়ক, দুটি জেলার আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনসহ গ্রোথ সেন্টার বা গ্রামীণ হাটবাজার উন্নয়ন করা হবে। এসবের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের জন্য মূল প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রকল্প সংশোধনের যুক্তিযুক্ত কারণ থাকায় বাস্তবতার নিরিখে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বৃহত্তর পটুয়াখালীর জন্য মূল প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমোদন দেয় একনেক। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ না বাড়লেও ব্যয় বাড়িয়ে প্রথম সংশোধন করা হয়। এবার ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত আড়াই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৪৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৫৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এখন নতুন করে ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৯১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে ২৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কিছু রাস্তা ও কালভার্টের চেইনেজ পরিবর্তন, সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারের সংযোগকারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে অধিকতর কার্যকরী করার স্বার্থে পারিপার্শ্বিক গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি পটুয়াখালী জেলার সদর, বাউফল, দশমিনা, দুমকি, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ এবং রাঙ্গাবালি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বরগুনা জেলার সদর, আমতলী, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা এবং তালতলী উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ৪৯ দশমিক ১২ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ দশমিক ২৮ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৪৯২ দশমিক ১৯ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক, ৭৮ দশমিক ৮০ মিটার উপজেলা সড়কে কালভার্ট নির্মাণ, ১৯৭ মিটার ইউনিয়ন সড়কে কালভার্ট নির্মাণ, ৯৩৩ দশমিক ৬৩ মিটার গ্রাম সড়কে কালভার্ট নির্মাণ, সাতটি ঘাটলা তৈরি এবং ১০টি হাটবাজার উন্নয়ন করা হবে। আজ একনেকে উঠতে যাওয়া অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন-৩’, এর আওতায় প্রতিবছর ৫ কোটি টাকা করে আগামী ৪ বছরে ২০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়াও জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (দ্বিতীয় সংশোধিত), মনু নদীর ভাঙন থেকে মৌলভীবাজার জেলা সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা, হাওরাঞ্চলে টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জামালপুর জেলা কারাগার নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (চট্টগ্রাম জোন, প্রথম সংশোধিত), টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ (হরিদাসপুর)-মোল্লাহাট (ঘোনাপাড়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০ মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন (দ্বিতীয় পর্যায়)।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/