• শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত নয়

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

করোনা সংকটের মধ্যে সরকার আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে এবারও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল- করোনা সংকট না কাটলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। অন্যদিকে দেশে বিনিয়োগ নেই। এরপর প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একেবারেই অবাস্তব। প্রতি তিন মাস পর বাজেট পুনর্মূল্যায়ন জরুরি।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ভার্চুয়াল বাজেট সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় তারা বাজেট বাস্তবায়ন ও করোনার অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেন। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাই ব্যাংককে বাঁচাতে হবে। আর পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ৬ মাস পরই টাকা ছাপিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দিতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও নাহিম রাজ্জাক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পলিসি রিসার্স ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবির প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময়ে সব বক্তাই স্বাস্থ্য খাতে আরও গুরুত্ব দেয়ার পক্ষে মত দেন। এ সময়ে বক্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কারে ব্যাপক জোর দেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সার্বিকভাবে বাজেটের বরাদ্দ ও খরচ দুটোই পর্যালোচনা করা উচিত। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাজেট পর্যালোচনার প্রস্তাবটি ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি। রেহমান সোবহান বলেন, করোনা সংকটের প্রেক্ষাপটে বাজেট বাস্তবায়ন তদারকি করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই টাস্কফোর্স হতে পারে। তার সুপারিশ হল- এই টাস্কফোর্স মূলত তিনটি ইস্যু নিয়ে কাজ করবে। এগুলো হল- করোনা সংকটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কীভাবে খরচ হচ্ছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির টাকা কীভাবে সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন। প্রতি তিন মাস অন্তর এই টাস্কফোর্স জাতির সামনে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন দেবে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গৎবাঁধা বাজেট দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে আছি। বৈষম্য বাড়লে এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে কী করব? তিনি বলেন, পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন আসছে। এখানে আরও স্বচ্ছতা জরুরি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি। সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বছরের অন্তত ৬ মাস পরপর বাজেট পর্যালোচনা করা উচিত। তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় যে প্রণোদনা প্যাকেজ দেয়া হয়েছে, তা নজরদারিতে রাখা জরুরি।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার যেভাবে চলছে তাতে ৬ মাস পর টাকা ছাপিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দিতে হবে। আর ধারাবাহিকভাবে এই সময়ে ১ বছরের বাজেট করা উচিত হয়নি। বরং ৬ মাস অন্তর দুটি বাজেট করা উচিত ছিল। এর মধ্যে প্রথম ৬ মাস করোনা মোকাবেলায়। পরের ৬ মাস করোনা-পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে। তিনি বলেন, করোনার পরিবর্তে সরকার গতানুগতিকভাবে এবারও জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়েছে। এই বাজেট দিয়ে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ তো দূরের কথা, ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও হবে না। তিনি বলেন, এবার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। করপরিধি বাড়ানোর জন্য আমরা এনবিআরকে দুই ভাগ করার কথা বলেছিলাম-রাজস্ব পলিসি ও প্রশাসন। বিভিন্ন মহল থেকে এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ এসেছিল; কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে রাজস্ব আদায়ও বাড়েনি। সামনেও আদায় কঠিন। এ কারণে সরকার এখনই ধারদেনা করে চলছে। এইভাবে চললে আগামী ৬ মাস পর টাকা ছাপিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দিতে হবে। এটা হবে দুর্ভাগ্যজনক। তবে এ সময় এখনও আসেনি। কিন্তু সময় আসতে বেশি দূরে নয়। তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনা থাকতে পারে। এ জন্য পরিকল্পনা নেয়া জরুরি। তার মতে, করোনার কারণে ৬-৯ মাস সময় ধরে যারা বেকার, তাদের বেঁচে থাকার জন্য ৩-৫ হাজার টাকা করেও বিশেষ ফান্ড দেয়া যেত; কিন্তু সেটা করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য ও সঠিক লোকদের দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা করা উচিত। কারণ, এখনও করোনা আক্রান্ত মানুষ গাড়ি ও রাস্তায় মারা যাচ্ছে। আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা ৪-৫ মাস সময় অতিবাহিত করেছি। সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আরও ৩ মাস করোনা বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য দিচ্ছে, দেশে খেলাপি ঋণ কমেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- কমা তো দূরের কথা, এই ঋণ দ্বিগুণ-তিন গুণ বেড়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের এই চেয়ারম্যান বলেন, সরকার ব্যাংকগুলোকে ‘দুধাল গাভি’ মনে করে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর সেই দুধ দেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। বর্তমানে ওই সক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর মতোই বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩০-৪০ শতাংশ হয়ে গেলে, তা দেশের ব্যাংকিং খাতের মঙ্গল হবে না। তাই ব্যাংকগুলোকে বাঁচতে দিন। এ ছাড়াও বেসরকারি খাতে আগামীতে ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ সম্ভব হবে না। তার জন্য কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

নিহাদ কবির বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ভালো ঋণগৃহীতাদের প্রণোদনা তুলে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে যারা ভালো ঋণগ্রহীতা, তাদের ১০ শতাংশ রেয়াতে একটা সুবিধা দেয়া হয়েছিল, গতকাল সেটাও বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়েছে। ফলে মনে হচ্ছে, দেশে ভালো ব্যবসায়ী হওয়া ভালো নয়। তিনি বলেন, ভালোভাবে ব্যবসা করার প্রণোদনা সরিয়ে তা কালো টাকার মালিকদের দেয়া হচ্ছে। এ পদক্ষেপটা আমরা কিছুতেই সমর্থন করতে পারি না। তিনি বলেন, কর্পোরেট ট্যাক্স ৩৫ থেকে সাড়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, সেটা ভালো উদ্যোগ। তবে এ ট্যাক্স রেট কমানোর কারণে যে সুবিধা আমাদের পাওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পাব না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, উৎস অগ্রিম কর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ নেয়া হয়। অধিকাংশ কোম্পানিই বছর শেষে যখন হিসাব করে, দেখা যায়, তার প্রকৃত কর দায় ওই ৫ শতাংশের সমান হয় না। এখানে একটা ট্যাক্স ক্রেডিট জমা হয়। কোনোদিনই আমরা ট্যাক্স ফেরত পাই না। এ সময় এনবিআরের সমালোচনা করে নিহাদ কবির বলেন, আমরা প্রতিবছরই দেখি এনবিআরকে একটা টার্গেট দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রিভাইজ (সংশোধিত) বাজেটে তা কমানো হয়। কিন্তু এনবিআর যে ফান্ডামেন্টাল পরিবর্তন দরকার, সেগুলো কোনো একটা কারণে আমরা কিছুতেই করে উঠতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যখনই তাদের টার্গেট পূরণ না হয়, তখনই যারা ভালো করদাতা তাদের ওপর চাপটা পড়ে। যারা কর দিতে পারেন, যারা কর দেয়ার যোগ্য তাদের ব্যাপারে কোনো কিছু করা হয় না। একটা বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে যে পরিমাণ রিসার্স প্রয়োজন, এনবিআরের ভেতরে সেই রিসার্সের সক্ষমতা এখনও গড়ে ওঠেনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এবারের বাজেট যেন রুটিনের ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে এমন বাজেট না হয়। যা প্রস্তাব করা হল, তাই পাস হল, সেটা যেন না হয়। বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে পরামর্শ মতামত দিচ্ছেন, এগুলো যেন যোগ করা হয়। পাশাপাশি অর্থবহ বাজেটের জন্য ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব-এ তিনটি খাত সংস্কারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখার আহ্বান জানান তিনি। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, করোনা বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এর কারণে দেশের রফতানি, রেমিটেন্স কমে যাওয়াসহ বেশিরভাগ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যাংক পুঁজিবাজারসহ দেশের আর্থিক খাতের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এ সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে চলমান সংকট মোকাবেলায় ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব-এ তিনটি খাতের সংস্কারের প্রস্তাব থাকা দরকার। তিনি বলেন, সাধারণত সব সময় রুটিন বাজেট হয়ে থাকে। তবে এবারের বাজেট কিছুটা ব্যতিক্রম হবে এমনটা প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাজেট প্রস্তাবে তা দেখিনি। আয় আর ব্যয় নির্ধারণের এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা উচিত ছিল। সেটা এক বছর হোক অথবা বেশি হোক এমন কিছু সংস্কারের প্রস্তাব থাকা দরকার ছিল। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে বা আর্থিক খাতের বিষয়। আমাদের মন্দ ঋণ বেড়ে গেছে-এটি কীভাবে আদায় করা যায়। ব্যাংক পর্ষদগুলোর সঠিক পরিচালনা এবং এ খাতের অনিয়ম দুর্নীতি কমানোসহ বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব দেন তিনি। সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার বেশিরভাগ ব্যাংক ঋণনির্ভর।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংক খাতের যে সংস্কারের কথা বলেছেন তার সমালোচনা করে এই অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা সংস্কার নয়, এটা আরও পেছনে ঠেলে দেয়া। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে কিছু সংস্কার করবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু উল্টো তালিকাভুক্ত অতালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির মধ্যে ট্যাক্সের ব্যবধান কমে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। বাজেটের বড় অর্থ সংস্থান করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাই বাজেটে এনবিআরের সংস্কারের একটা নির্দেশনা থাকা দরকার ছিল। কীভাবে এত বড় কর আসবে। আমরা বহুদিন ধরে শুনে আসছি নতুন করদাতা বাড়াতে বিভিন্ন জরিপ করছে। কিন্তু নতুন করে মানুষকে করের আওতায় কীভাবে আনবে-এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন ছিল। এসব বিষয়ে সংস্কার করা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকলে বাজেটটা অর্থবহ হতো। সরকারের ব্যাংক ঋণনির্ভরতা ঠিক নয় উল্লেখ করে সাবেক গভর্নর বলেন, সরকার ব্যাংক থেকে অধিক ঋণ না নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ নিতে পারে। তবে সেই ঋণের সুদহার ২-৩ শতাংশ বেশি হওয়া উচিত নয়। ৭, ৮ শতাংশ সুদে ঋণ নিলে ব্যাংগুলো চাপে পড়বে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি ধরা হয়েছে। কোভিড-১৯ এখনও চলমান। সুতরাং এই অনুমতি আমাদের কাছে সঠিক মনে হয়নি। রফতানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। কিন্তু এ বছর হয়তো ১৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে। সেই ঘাটতি পূরণ করে আরও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করা চ্যালেঞ্জিং হবে। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন আমরা খুব দ্রুতই করোনার সংকট কাটিয়ে উঠব। কিন্তু বেসরকারি-সরকারি বিনিয়োগের যে অবস্থা তাতে মনে হয়েছে, রফতানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। তিনি বলেন, রাজস্বের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। সেখানে বড় অংশই আসবে অপ্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে। এতে মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। ফলে কর ফাঁকি কমিয়ে কীভাবে আয়কর বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

সিপিডির এই বিশেষ ফেলো আরও বলেন, বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক থেকে ৮৭ হাজার কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সরকার এই টাকা নিলে ব্যাংক থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অর্থ পেতে সমস্যা হবে। অন্যদিকে হিসাব মেলানোর জন্য এবার ১১ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর আগে সর্বোচ্চ আমরা ৮ বিলিয়নের মতো ব্যবহার করতে পেরেছি। ফলে ৩ বিলিয়ন বাড়ানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের।

তিনি বলেন, ব্যক্তির আয়করমুক্ত সীমা ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। মহিলা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সেটা বাড়ানো হয়েছে। তবে নিু আয়ের চেয়ে উচ্চ আয়ের মানুষ আরও বেশি সুবিধা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ রেয়াত দেয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানি শেয়ারবাজারের বাইরে, সেসব কোম্পানি এই সুবিধা পাবে। এর ফলে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ব্যবধান কমল। গত কয়েক বছর ধরে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির কথা বলা হচ্ছে; কিন্তু তার বাস্তবায়ন নেই। ড. মোস্তাফিজ আরও বলেন, ১০ শতাংশ কর দিয়ে ‘অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করা যাবে-এটা অনৈতিক। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে এটি কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- ধরতে পারলে ৫০ শতাংশ জরিমানা করে সেটা আদায় করা হবে; কিন্তু এর আগে ছিল ধরতে পারলে জেল-জরিমানা হবে। সেখান থেকেও এটা কিন্তু এক ধরনের অব্যাহতি দেয়া হল। তিনি বলেন, ‘টার্নওভার ট্যাক্সের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। করোনার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে টার্নওভার ট্যাক্স কমানো উচিত। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার একটা চেষ্টা করা হয়েছে। এটা খুব ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন, তামাকের মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক দুটোই বাড়ানো হয়েছে। এটিও ভালো পদক্ষেপ। অন্যদিকে আগে ফার্নেস অয়েলের ওপর যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, এবার তা তুলে নেয়া হয়েছে। এর ফলে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিরুৎসাহিত হবে। সরকারের ফার্স্টট্র্যাক প্রকল্পে পণ্য আমদানিতে ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে। এটি যৌক্তিক নয়। ড. মোস্তাফিজ বলেন, মোবাইলের সিমের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এটি অযৌক্তিক। কারণ, মোবাইলের সিমের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় ইন্টারনেটের ব্যবহার কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/