• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
কিরণ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মানুষ করোনার চেয়ে শক্তিশালী-শাহজাদা মহিউদ্দিন নোয়াখালীতে রোগের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বৃদ্ধের আত্মহত্যা চরহাজারীতে পল্লী চিকিৎসকদেরকে সুরক্ষা সরঞ্জাম দিলেন আমেরিকা প্রবাসী পিন্টু! নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে ‘ছাত্রলীগ নেতা ও তার পরিবার’ নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে ‘ছাত্রলীগ নেতা ও তার পরিবার’ করোনা দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের জন্য কাজ করছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ নেতা এয়াকুব সায়িম ইমন। ঈদের পরের দিন বাজারে আসছে এ এইচ তুর্যের “জ্বলে পুঁড়ে অঙ্গার হইলাম” দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় যুবলীগের পক্ষে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরন!

আপনি জন্ম থেকেই একজন বিজয়ী!

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

একটু থামুন তো! আপনি কি চিন্তা করেছেন যে জন্মের পূর্বে কত বড় একটি লড়াই জিতে বিজয়ী হয়েছেন? চিন্তা করুন। ‘আমরাম শিনফেলড, একজন জেনেটিক বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেছেন, ‘ এই সমগ্র বিশ্বে, অতীত ইতিহাসে আপনার মতো কেউ আসেনি। আর অদূর ভবিষ্যতেও আপনার মত কেউ আসবে না।’ আর বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ বলেছিলেন, ‘আমরা করোনার চাইতেও শক্তিশালী।’

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে ‘কভিড-১৯’ নামক করোনা ভাইরাস। যেই ভাইরাসে পুরো বিশ্ব থমকে গিয়েছে। আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।এখনো বাজারে আসেনি কোন প্রতিষেধক। তাহলে কি মানব জাতির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে?

লক ডাউন উঠে যাবে হয়ত কয়েকদিন পরই। কেন উঠবে সেটাও পরিষ্কার। হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মরবে। লকডাউন রাখা হয়েছিল ভাইরাসটা যেন ধীরে ছড়ায়, ততদিনে যেন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, পুরো পৃথিবীর ৭০০ কোটির সবার হাতে হাতে এই ভ্যাক্সিন পৌছাতে, কম করে হলেও ৩-৪ বছর লাগবে। তাই এমন অনন্তকাল লক ডাউন রাখা সম্ভবও না, সে যত উন্নত রাষ্ট্রই হোক না কেন। চীন,ইতালিতেও উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে লকডাউন।
এত নেতীবাচক খবরের মাঝে ভ্যাক্সিন আসা পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।সেটি কিভাবে সম্ভব?

শিরোনামে বলেছি ‘আপনি জন্ম থেকেই একজন বিজয়ী’। আপনার ইতিহাস বলে আপনি খুবই বিশেষ একজন ব্যক্তি।বহু লড়াই, বাধা পেরেই আপনি জয়ী হয়েছেন, এই পৃথিবীতে এসেছেন। একটু চিন্তা করুন- ১ কোটি স্পার্ম কোষের মধ্যে একটি বিরাট লড়াই হয়। সেই লড়াইয়ে কেবল একজন‌ই জয়ী হয়েছে। সেই বিজয়ী কেবল আপনি। এই এক কোটি স্পার্মের মধ্যে একটি দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। সকল স্পার্মের লক্ষ্য একটাই-ডিম্বকের নিউক্লিয়াসে পৌঁছাতে হবে। এই কোষগুলো এত‌ই ছোট যে খালি চোখে দেখা অসম্ভব। তারপরও তারা প্রত্যেকেই তাদের জীবন রক্ষার জন্য এক কঠোর লড়াইয়ে লিপ্ত হয়।
এই লাখ লাখ স্পার্মের প্রতিটির মাথায় থাকে ২৪টি ক্রোমোজোমের এক অমূল্য সম্পদ। এই ২৪টি ক্রোমোজোমে থাকে আপনার বংশ পরিচয়। এই স্পার্মগুলো প্রত্যেকেই ডিম্বকের নিউক্লিয়াসে পৌঁছানোর জন্য একে অপরের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে দ্রুত, সবচেয়ে সুস্থ স্পার্মটি ডিম্বকে পৌঁছায়।

আপনি! আপনিই হচ্ছেন সেই বিজয়ী, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যে কোটি স্পার্মের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই পৃথিবীতে বীরদর্পে পদার্পন করেছে।

শুরুতে দুজন ব্যক্তির বাক্য উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম। আপনি ১ম ব্যক্তির কথা মানলেও ২য় ব্যক্তির কথাকে নিয়ে উপহাস করেছেন। উপরের লিখা পড়ে আপনার লড়াইয়ের ক্ষমতা দেখে নেতিবাচক চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন।

সুতরাং লড়াই করে টিকে থাকতে হবে। লড়াই করার ক্ষমতা তো আপনি জন্ম থেকেই নিয়ে এসেছেন। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে পরিবর্তন হতে হবে। কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই লড়াইয়েও টিকে থাকা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রীনা ফ্লোরা করোনা লড়াইয়ে নিম্নোক্ত নির্দেশনা দিয়েছেন, মেনে চলুন।
১) অভ্যাসঃ বাজে অভ্যাসগুলা ত্যাগ করতে হবে। কথায় কথায় মুখে আঙুল দেয়া, কলমের মুখ কামড়ানো, আঙুল জিব্বায় লাগিয়ে কাগজ উল্টানো, সেপ দিয়ে টাকা গোনা ইত্যাদি যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। সাথে মাস্ক পড়তে হবে এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। ২০০৩ এ জাপানে সার্স ভাইরাসের মহামারির পর তাদের মধ্যে এই অভ্যেস গুলা গড়ে উঠেছিল, যা আজ খুব ভাল কাজ করতেসে ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে। ধূমপান যথাসম্ভব পরিহার।

২) এনভায়রনমেন্টঃ আমরা খুব ভাগ্যবান যে আমরা এমন পরিবেশে আছি। নয়ত এই ঘনবসতি দেশ কবেই শেষ হয়ে যেত। আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা খুব ভাল কাজ করতেসে। আর্দ্রতা বেশি থাকা মানে বাতাসে ধুলাবালি কম উড়বে। শীতে আর্দ্রতা কম থাকে, চারিদিক শুষ্ক থাকে বলে বেশি ধুলা ওড়ে। এজন্য শীত প্রধান দেশে এই ভাইরাস হানা দিতেসে বেশি। তাই ঠান্ডা এসি এভোয়েড করতে হবে, এসি রুমের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়।

৩) ইমিউনিটিঃ এটাই মোস্ট ইম্পোর্টেন্ট। এই পুরো পোস্ট লিখার পেছনে এই পয়েন্টটাই দায়ী। হার্ড ইমিউনিটির বিকল্প নাই। আমাদের ইমিউনিটি বুস্ট করতেই হবে। সেটা কিভাবে?


ফিজিক্যালি এন্ড মেন্টালি।


ফিজিক্যালিঃ

  • নিয়ম মাফিক ঘুমাতে হবে, রাত জাগা খুব খারাপ শরীর ও ইমিউন সিস্টেমের জন্য। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে, প্রায় ১৫-৩০ মিনিট। মাসল এক্টিভিটি বাড়াতে হবে।
  • প্রায়ই রোদে ঘুরতে হবে ছাদে। রোদ দরকার, ভিটামিন ডি লাগবেই

খাবারঃ
• ভাতে কোন ঘোড়ার আন্ডার পুষ্টিও নাই, উল্টা অতিরিক্ত ভাত খেলে আপনি মোটা হবেন। ভাত কম খেয়ে তরকারি এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে।
• প্রচুর পানি খেতে হবে ( এটা খুব বাজে অভ্যাস আমরা পানি খেতে চাই না)
• এন্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খেতে হবে। শাক সবজি খেতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রটেকশন নিয়ে বাজারে যান, নয়ত ইমিউনিটির অভাবে এমনিও মরতে হবে।
• ভিটামিন সি বা টক যুক্ত ফল, কমলা, লেবু খেতে হবে। এছাড়াও সিজনাল ফল খেতে হবে। প্রতিদিন সকালে লেবু সেদ্ধ গরম পানি খান।
• ফাস্ট ফুড টোটালি অফ, চিনি কিংবা লবন খাওয়াও কমাতে হবে।
• আমাদের দেশের মশলা গুলা দারুন কাজের। লং, লবঙ্গ, জিরা, হলুদ, দারুচিনি এই গুলা মারাত্মক ভাবে ইমিউনিটি বুস্ট করে। দুধে হলুদ মিশিয়ে খাবেন, হলুদ অনেক কাজের। চায়ে মশলা মিশিয়ে খাবেন। গ্রিন টি (এন্টিঅক্সিডেন্ট) বেস্ট, গ্রিন টি তে এই মশলা গুলা খেলে অনেক ভাল।
• কালিজিরা কার্যকরী একটা জিনিস। প্রতিদিন সকাল বেলা উঠে এক চামচ মধুর সাথে কালিজিরা অনেক বেটার একটা কম্বিনেশন। এছাড়া কালিজিরা ভর্তা/ভাজি খাবারে সাথেও খেতে পারেন।

মেন্টালি

ইমিউন বুস্টের জন্য সঠিক হরমোনাল ব্যালেন্স ঠিক রাখা খুব জরুরি। তাই মন কে শান্ত রাখতে হবে, হাসি খুশি থাকতে হবে। ধর্মীয় প্রার্থনায় মন দিন, মন সুন্দর থাকবে।

সবাই ভাল থাকুক, সবাই সুস্থ থাকুক। সবাইকে নিয়েই বাঁচতে চাই। বাকিটুকু আল্লাহ ভরসা।

ম‌ওদুদ আহমদ
শিক্ষানবিস আইনজীবী
ঢাকা বার এসোসিয়েশন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/