• শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
গৃহহীন অসহায় মমতাজকে টিম হাসিমুখের ঘর উপহার! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে যুবলীগের বিক্ষোভ দেশজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামি ভাস্কর্য রামগঞ্জে দল্টা বাঙ্গালী ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং নকল আওয়ামী লীগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আসল আওয়ামীলী লীগ’ বসুরহাট পৌরসভার জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ আবদুল কাদের মির্জা ‘তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে’ যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি ভাস্কর্য বিরোধীতার আগে শিশু বলাৎকার বন্ধ করুন: ডা. জাফরুল্লাহ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইমাম রাসেল’র জন্মদিন উদযাপন

নড়াইলের পল্লীতে অন্তত পাঁচটি গুচ্ছ গ্রামের হাজারো বাসিন্দার হাঁড়িতে চাল ওঠেনি!!

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০

উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইলঃ     নড়াইল জেলার পাচগ্রাম ইউনিয়নে বিলের মাঝে পাটেশ্বরী গুচ্ছগ্রাম। এখানকার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী ইলিয়াস আলী। দিনমজুর। পরিবারের একমাত্র ছেলেও প্রতিবন্ধী। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে প্রায় একমাস খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তারা। প্রতিদিনই প্রতীক্ষায় থাকেন কবে আসবে সরকারি ত্রাণ। উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইল জানান,  এরকমই আরেকজন রাহিলা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে পরের বাড়ি কাজ করে ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনজনের সংসার চলে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন পার করা এই নারীকে কাজে নিচ্ছেন না গ্রামের সচ্ছল লোকেরা। জানালেন, গত দশ দিন তার হাঁড়িতে চাল ওঠেনি।
একইভাবে করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন কালিয়ার অন্তত পাঁচটি গুচ্ছগ্রামের হাজারো বাসিন্দা।
এখানকার বাসিন্দা জয়নব বিবি বলেন, ‘একবার মাত্র পাঁচ কেজি চাল পেয়েছি। আর কিছুই পাইনি। শুনেছি, সরকার গরিব মানুষের জন্য চাল, ডাল, তেল দিচ্ছে। আমরা খুব গরিব মানুষেরা এখানে থাকি। গত একমাস কোনো কাজ নেই। গ্রামে এর ওর বাড়ি থেকে যা পাচ্ছি তাই খাচ্ছি।’
গুচ্ছগ্রামে গেলে ত্রাণের জন্য ছুটে আসেন না খাওয়া মানুষেরা। এখানে বাস করা ছোট শিশুদের জন্য ঘরে দুধ নেই, একবাটি দুধের মধ্যে কয়েক বাটি পানি দিয়ে কোনোরকমে দুধ খাওয়াচ্ছেন গরিব মায়েরা। অধিকাংশ বাড়ির চুলায় আগুন জ্বলছে না।
কমেলা বেগম নামে এক মাঝবয়সী নারী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘প্রায় দশ দিন হয়ে গেল, চুলায় খাবার বসাতে পারিনি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০ পরিবারের এই গুচ্ছগ্রামে অন্তত দেড়শ’ মানুষের বাস। এদের মধ্যে কেউ বাজারে চটপটি বিক্রি করেন, কেউ ট্রলারে কাজ করেন আবার কেউবা ভ্যান চালান। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত একমাস ধরে এসব লোকের নেই কোনো কাজ, নেই ত্রাণও। স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় এই গুচ্ছগ্রামে সরকারি কোনো ত্রাণও পৌঁছেনি বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেন।
একইরকম অবস্থা ইউনিয়নের যাদবপুর, মহিষখোলা, পাটেশ্বরী, সাতবাড়িয়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দমতো লোকদের ত্রাণ দিচ্ছেন। দারিদ্র্য বিবেচনায় না নিয়ে সরকারি ত্রাণ বিতরণেও স্বজনপ্রীতি করা হচ্ছে।
যাদবপুর চৌরাস্তা এলাকায় ভ্যান চালান অন্তত ৩০০ জন। এদের কারো কাছে সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। ভ্যানচালক হাফিজুর বিশ্বাস, আনোয়ার বিশ্বাস, রফি শেখ, ইমরুলসহ কয়েকজন জানান, একবার মাত্র দশ কেজি চাল পেয়েছেন। তাও মেপে দেখেছেন তিন কেজি কম।
ভ্যানচালক ইমরুল অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান জহুর তার নিজের আত্মীয়-স্বজনদের চাল, তেল, ডাল, সাবান দিয়েছেন।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নটিতে সরকারিভাবে একবার মাত্র একশ’ প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, আধা কেজি ডাল, এক লিটার তেল ও সাবান ছিল। এই তালিকার মধ্যে গুচ্ছগ্রামের হতদরিদ্রদের কারো নাম ছিল না। নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘কয়েকটি গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য শনিবারই (১৮ এপ্রিল) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাটেশ্বরী গুচ্ছগ্রামে চেয়ারম্যান দিতে না চাইলেও আমি উনাকে বলেছি মাল নিয়ে বিতরণের জন্য।’ উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইল।     

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

http://digitalbangladesh.news/